দেবযানী সরকার, কলকাতা: দুর্মূল্যের বাজারে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের৷ এই বাজারেও এক টাঙায় সিঙাড়া বেচে ব্যতিক্রমী বেলঘরিয়ার মা কালী মিষ্টান্ন ভান্ডার৷নীলগঞ্জ রোডের উপর এই দোকানে প্রতিদিনই বিকেল চারটে থেকে শুরু হয়ে ‌যায় লম্বা লাইন।

বিকেল পাঁচটা-ছটায় দুবার এক কড়াই করে সিঙাড়া হয়৷ দু-বার নামার সঙ্গে সঙ্গেই উধাও হয়ে যায় চারশো-চারশো, মোট আটশো সিঙাড়া৷ তবে যত টাকা এবং যতক্ষণ সময় নিয়ে আপনি দাঁড়ান না কেন আপনার ভাগ্যে বরাদ্দ থাকবে মাত্র ১০টি সিঙাড়াই৷ এটাই দোকানের নিয়ম৷

প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো দোকান মা কালী মিষ্টান্ন ভান্ডার৷ আগে এখানে ২০ পয়সায় সিঙাড়া বিক্রি হত৷ বাড়তে বাড়তে তা অবশ্য থেমে গিয়েছে এক টাকাতেই। গত ছ’বছরে আর বাড়েনি।শুধু আকারে কিছুটা ছোট হয়েছে৷ স্থানীয়রা তো বটেই এক টাকার সিঙাড়া খেতে অন্য এলাকা থেকেও লোকজন আসেন এখানে৷

মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মাত্র একটাকায় সিঙারা

#Kolkata24x7 #FacebookVideoদাম বাড়ছে পেট্রল-ডিজেলের৷ আকাশছোঁয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর৷ এই বাজারেই জলের দরে মিলছে মুখরোচক সিঙারা৷ অবাক হবেন না, এটাই সত্যি৷ দেখে নিন কোথায় মিলছে মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মাত্র একটাকায় সিঙারাআরও অফবিট খবর পড়তে ক্লিক করুন https://bit.ly/2FuA4d1

Kolkata24x7 यांनी वर पोस्ट केले बुधवार, १६ जानेवारी, २०१९

স্থানীয় ক্রেতা আশিস রায় বলেন, “আমি এই পাড়ায় বছর ছয়েক হল এসেছি৷ তবে থেকে এক টাকায় সিঙাড়া খাচ্ছি৷ সপ্তাহে তিনদিন তো খাই-ই৷ অনেকেরই মনে হতে পারে এক টাকায় সিঙাড়া দিচ্ছে সেটা কেমন হবে কে জানে? আমি হলফ করে বলতে পারি এতে কোনও গ্যাস-অম্বল কিচ্ছু হবে না৷”

স্থানীয় যুবক শুভদ্বীপের কথায়, “আমাদের পাড়ার গর্ব এই দোকান৷ এখানে কারোর বাড়িতে গেস্ট এলে এক টাকার সিঙাড়া খাওয়ানো হয়৷ ডিসেম্বর মাসে আমাদের পাড়ার মাঠে খেলা ছিল৷ আমার কাকা এখানে সিঙাড়া নিতে এসেছিল৷ সিঙাড়া ভাজা হচ্ছে দেখে খেলা দেখতে গিয়েছিল৷ পাঁচ মিনিটের পর এসে দেখে সব শেষ৷এখানে একবার লাইন থেকে বেরোলে আর সেদিন সিঙাড়া পাওয়া যাবে না৷ এখানে স্থানীয় লোকেদের থেকে বাইরের লোকেদের লাইন বেশি পড়ে৷ দমদম, সোদপুর, বারাকপুর থেকে সবাই আসে৷”

কিন্তু চড়া বাজারে কীভাবে দেন এক টাকায় সিঙাড়া? দোকান মালিক নিতাই পালের সহাস্য জবাব, এটাই এই দোকানের গুডউইল৷ কারিগরের সমস্যাই তাঁর প্রধান আক্ষেপ৷ মজার ব্যাপার এক টাকার এই সিঙাড়ার দোকান প্রচার চায় না৷ কারণ খদ্দেরের বিশাল চাহিদাই তাদের একমাত্র ভয়৷