সুভাষ বৈদ্য: জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি৷ দুই দেশের যুদ্ধ বিমান একে অপরের সীমান্ত পেরিয়েছে৷ কিন্তু এক সময় এমন সব জিনিসের ভাগাভাগি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছিল, যা হয়তো আজকের দিনে কল্পনাও করা যায় না।

১৯৪৭ সালের জুন মাসে দেশভাগের কথা ঘোষণা হল৷ দুই দেশের মধ্যে ভূমি ভাগ হল৷ শুধুই তাই নয়, দুই দেশের মধ্যে সীমারেখাও টানা হল৷ তখন থেকেই ভারত পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে ছোট ছোট বিষয়ে ভাগাভাগি নিয়ে লড়াই শুরু হয়েছিল৷ ইতিহাস বলে, সেই তালিকায় ছিল সূচ, পেন্সিল, চেয়ার, টেবিল৷ এমনকি বাদ ছিল না জন্তু-জানোয়ারও৷ সে সময় জায়মুনি নামের একটি হাতিকে পূর্ব পাকিস্তানে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ দেশভাগের সময় ৬০টি হাঁসও দুই দেশের মধ্যে ভাগ হয়েছিল৷

এছাড়া ভারতের বিদেশ মন্ত্রক থেকে ২১টি টাইপরাইটার যন্ত্র, ৩১টি কলমদানি, ১৬টি সোফা, ১২৫টি কাগজপত্র রাখার আলমারি আর অফিসারদের বসার জন্য ৩১টি চেয়ার পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল। ভাগ হয়েছিল নর্তকীর মূর্তি, ধ্যানরত পূজারীর মূর্তি৷ নর্তকীর মূর্তিটি পেল ভারত, আর পাকিস্তান পেল পূজারীর মূর্তি। দুটো দেশ যখন পেন-পেন্সিল আর পিনের মতো সাধারণ জিনিসপত্র নিয়ে ভাগাভাগি করছিল তখন দুই দেশের হাতে কোনও মারণাস্ত্র ছিল না৷ আজ দু’টি দেশ যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে তাতে যুদ্ধ হলে তার ফল হবে মারাত্বক৷ দু’দেশের হাতেই রয়েছে পারমাণবিক বোমা৷

সম্প্রতি জঙ্গি হামলায় পুলওয়ামায় ৪০ জনের বেশি জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে৷ অপর দিকে বালাকোটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আক্রমণে ৩৫০ জনেরও বেশি জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি৷ পাকিস্তানের মাটিতে এয়ারস্ট্রাইক চালানোর পর থেকে লাগাতার এলওসিতে গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে পাকিস্তান সেনা। সীমান্তের সংলগ্ন ৫৫টি পোস্ট টার্গেট করে শেলিং পাকসেনার। গোটা রাত ধরে ভারী গোলাবর্ষণ চালিয়েছে পাকিস্তান সেনা। যদিও পালটা জবাব হিসাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে। ভারতের পালটা প্রত্যাঘাতে রাতেই পাকিস্তান সেনার পাঁচটি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা