ঢাকা: কতকিছুই তো মেলে অ্যাপে৷ যার যেমন খুশি তেমনই বিভিন্ন অ্যাপ ডাউনলোড করেন-পছন্দমতো অর্ডার করতে পারেন৷ তা বলে আম! ফলের রাজা হিসেবে সেটা তো আর বাদ থাকতে পারে না৷ অতএব বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই এমনকি বিদেশ থেকেও বিশেষ অ্যাপে শুরু হয়েছে বহু বিখ্যাত রাজশাহীর আম কেনা-অর্ডারের পালা৷

গরমের সময় এই অ্যাপটি বাংলাদেশের সবার কাছে বিশেষ পছন্দের৷ ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই অ্যাপ ভিত্তিক আমের দুনিয়ায় ঢুকে পড়ছেন৷ ‘রাজশাহীর আম’ এই নামেই চলছে অ্যাপটি৷ লক্ষাধিক গ্রাহক তাতে ঢুকে পড়েছেন৷ এই অ্যাপের মাধ্যমে শুধু রাজশাহীর আম সরবরাহ করা হবে। সেই সঙ্গে নিশ্চয়তা থাকবে ঘরে বসে রাসায়নিক মুক্ত আম পাওয়ার। প্রবাসীরাও এই অ্যাপের মাধ্যমে দেশে তাদের স্বজনদের কাছে রাজশাহীর আম পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা পাচ্ছেন।

অ্যাপ ভিত্তিক এই অভিনব আম ব্যবসার জনক হাসান তানভীর৷ ২০১৩ সালে তাঁর বাগানের আম বিক্রির জন্য ফেসবুক পেজ চালু করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন৷ প্রচুর ক্রেতা সেই পেজের সদস্য৷ তাঁরা তাদের পছন্দ মতো আম কিনতে চেয়ে অর্ডার করে উপকৃত হন৷ ক্রমে এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে তানভীর হাসান একটি অ্যাপ এনেছেন-‘রাজশাহীর আম’ এই অ্যাপ চালু হওয়ার পরেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিপুল সাড়া পড়ে গিয়েছে৷ প্রশাসনও চমকে গিয়েছে৷

আম অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা তানভীর হাসান জানিয়েছেন- অ্যাপটি যেকোনো স্মার্ট ফোনে ব্যবহার করা যাবে। গুগল প্লে স্টোর থেকে বিনামূল্যে ‘রাজশাহীর আম’ নামের অ্যাপটি ডাউনলোড করুন৷ এরপর নিজের তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন৷ আগ্রহী ক্রেতা নিমেষে পৌঁছে যাবেন রাজশাহীর বিখ্যাত আমের ভুবনে। সেখানে বিখ্যাত রাজশাহী আমা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে। দেখেশুনে প্রয়োজন মতো আম কিনতে চেয়ে অনলাইন পেমেন্ট করুন৷ তারপরেই ঘরে পৌঁছে যাবে আপনার কেনা আম৷ আরও বিস্তারিত কিছু জানতে চাইলে অ্যাপের কল অপশনে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য জাচাই করে নিতে পারেন৷

পরিমাণ নির্ধারণ করে পেমেন্ট অপশনে যেতে হবে। মূল্য পরিশোধ করার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং, সরাসরি ব্যাংক পেমেন্টের পাশাপাশি প্রবাসীরা ব্যবহার করতে পারবেন ‘ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানি ট্রান্সফার’ পদ্ধতি। কোনও ক্রেতার আরও কিছু জানার থাকলে এই অ্যাপের কল অপশন ব্যবহার করে বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি কথাও বলে নিতে পারবেন।

তানভীর হাসান জানিয়েছেন- তাঁর ফেসবুক পেজে এখন প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার অনুসারী। ক্রেতাদের সেখানে এত চাপ যে তাঁদের পক্ষে ক্রেতাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে গ্রাহকদের বেস্ট কোয়ালিটি দিতে তাঁর ত্রুটি থাকবে না৷ কারণ রাসায়নিক মুক্ত আম তিনি নিজেই পর্যবেক্ষণ করেন৷ এই আম অ্যাপের মাধ্যমে রাজশাহীর আম এখন বিদেশেও যাচ্ছে আরও বেশি করে৷