স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সন্দেশখালি ঘটনার পর বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের ইঙ্গিত দিলেন রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী৷তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র বা আইনের শাসন বলে কিছু নেই। একটা সীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেলে আমরা পশ্চিমবঙ্গের জন্য অন্য কিছু ভাবার আবেদন জানাব রাস্ট্রপতির কাছে।

নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী রবিবার কলকাতায় যাওয়ার পথে মালদহে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে বিজেপি কর্মীদের লাগাতার মারধর করা হচ্ছে, খুন করা হচ্ছে। দিনের পর দিন পশ্চিমবঙ্গে যা অবস্থা তৈরি হচ্ছে তাতে তা ৭২ সালের পরিস্থিতি থেকেও কয়েকগুন খারাপ পরিস্থিতি বর্তমানে এই রাজ্যে তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য মদত দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ইশারা অত্যন্ত খারাপ৷”

দেবশ্রী বলেন, “তৃণমূল ছোট্ট একটা দল আমরা যদি তাদের পিষে মারতে চাই তাহলে বেশিক্ষণ লাগবে না। ৩৪ থেকে এখন ২২ পরিণত হয়েছে। একের পর বিধায়ক দল ছাড়ছে৷ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। বাংলার মানুষই ওদের সরাবে।”

শনিবার সন্দেশখালির ন্যাজাটে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। বিজেপির দাবি, তাঁদের পাঁচ কর্মীকে খুন করেছে তৃণমূল। তবে পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে৷ এরমধ্য দুজন বিজেপি কর্মী, ও একজন তৃণমূল কর্মী৷ গোটা ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রবিবারের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতি সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। রাজনৈতিক মহলের খবর, সেই বৈঠকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে সন্দেশখালি প্রসঙ্গ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সন্দেশখালি ঘটনার প্রভাব পড়া শুরু হয়ে গিয়েছে৷ রবিবার বিকেলে দলীয় কর্মীদের মৃত্যুর প্রতিবাদে কোচবিহারের শীতলকুচিতে পথ অবরোধ কর্মসূচি সেরে বাড়ি ফিরছিলেন বিজেপির কর্মীরা। তখনই বিজেপি সমর্থকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুলি লাগে দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি হেমচন্দ্র বর্মনের ছেলে জনক বর্মনের পায়ে।

এছাড়া তরণী বর্মণ নামে গুলিবিদ্ধ এক যুবককের বুকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের মাথাভাঙ্গা হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে।ঘটনার সময় এলাকায় তৃণমূল ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। ভাঙচুর হয়েছে স্থানীয়দের প্রায় ১০০টি বাড়ি। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছেছে পুলিস।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ