মুম্বই: ফেয়ারনেস ক্রিম আর এখন কসমেটিক্স নয়৷ এই ক্রিম কিনতে গেলে ছুটতে হবে মেডিক্যাল স্টোরে৷ তাও আবার প্রেসক্রিপশন নিয়ে৷ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনভাবেই মিলবে না পছন্দের ফেয়ারনেস ক্রিম৷ কসমেটিক্সের দোকান থেকে এই ক্রিম বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক৷

গত ২৩ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়৷ সেখানে সিডিউল এইচের তালিকায় ১৪টি পণ্যকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানানো হয়৷ যার মধ্যে রাখা হয়েছে ফেয়ারনেস ক্রিমগুলিকে৷ এর অর্থ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া মিলবে না ফেয়ারনেস ক্রিম৷

কেন এই সিদ্ধান্ত? স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই জাতীয় ফেয়ারনেস ক্রিমগুলিতে স্টেরয়েড থাকে৷ ড্রাগ ও কসমেটিক্স রুলস ১৯৪৫ ধারায় কিছু সংশোধন এনে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে৷ এরপরেও যারা এই নির্দেশিকা অগ্রাহ্য করে কসমেটিক্স স্টোরে ফেয়ারনেস ক্রিম বিক্রি করবে তাদের কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে৷

জানা গিয়েছে, ড্রাগ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক৷ অ্যাডভাইজরি বোর্ড একটি রিপোর্ট জমা করে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের কাছে৷ সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফেয়ারনেস ক্রিম যেন বিক্রি করা না হয়৷ এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক৷

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চর্মরোগ ডাক্তারদের একটা বড় অংশ৷ তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের ক্রিমগুলোতে স্টেরয়েড মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়৷ স্টেরয়েড ত্বককে উজ্জল করে তুলতে সাহায্য করে৷ তবে এর সাইড এফেক্টও রয়েছে৷ অতিরিক্ত স্টেরয়ডের ব্যবহার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে৷ তবে এই নির্দেশিকার আওতা থেকে বাদ রাখা হয়েছে সাধারণ মুখ পরিস্কারের জন্য ব্যবহৃত ক্লিনসার ও ময়েশ্চরাইজারকে৷