প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: আম নিয়ে বচসার জেরে খুন হতে হল এক যুবককে৷ শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ছয়ঘরিয়া গ্রামে৷

অভিযোগ, পৈতৃক গাছের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের বচসা শুরু হয়৷ সেই গোলমাল জড়িয়ে পড়ে দুই ভাইয়ের পরিবার৷ তখনই ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভাইপোকে খুন করে কাকা৷

আরও পড়ুন: যোগীর রাজ্যে মাংস বিক্রেতাকে পিটিয়ে মারল ‘গো-রক্ষক’ পুলিশ

এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের মা ও বাবা৷ দু’জনেরই অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক৷ তাঁরা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছয়ঘরিয়া গ্রামে পাশাপাশি বসবাস দুই সহোদর মহম্মদ হানিফ ও আব্দুল হাকিমের৷ বাড়ির অদূরেই একটি আমগাছ রয়েছে৷ যাতে দু’জনেরই পৈতৃক অধিকার রয়েছে৷ শুক্রবার সকালে সেই গাছ থেকে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিবাদ বাঁধে৷

প্রতিবেশীদের দাবি, আম গাছ বা পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে হানিফ ও হাকিমের বিবাদ নতুন নয়৷ প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে৷ নিয়মিত তাঁদের বাড়ি থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা৷ তবে এদিন তা চরমে পৌঁছায়৷

আরও পড়ুন: ভারতের রফতানি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করতে চান মোদী

অভিযোগ, এরপরই আব্দুল হাকিম দলবল নিয়ে দাদা মহম্মদ হানিফ ও তাঁর পরিবারের ওপর চড়াও হয়। দুষ্কৃতীরা মহম্মদ হানিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়৷ এই অবস্থায় হানিফকে বাঁচাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন হানিফের স্ত্রী হাওয়া বিবি৷ তাঁর ছেলে তাজমুল হকও বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান৷ তখন বছর কুড়ির তাজমুলকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।

এই অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে গ্রামবাসীরা স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান৷ সেখানে চিকিৎসক তাজমুলকে মৃত ঘোষণা করে। মহম্মদ হানিফ ও তাঁর স্ত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরও পড়ুন: লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু নির্বাচন কমিশনের

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ তবে এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি৷ প্রতিবেশীদের দাবি, মহম্মদ হানিফ, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে গ্রামের সকলে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন৷ ফলে আব্দুল করিম ও ওই দুষ্কৃতীরা কোথায় গেল, সেদিকে কেউই খেয়াল করেননি৷ ফলে অভিযুক্তরা এখন সবাই পলাতক৷ পুলিশ তাঁদের খুঁজছে৷