নয়াদিল্লি: একসময় সঠিক আবহাওয়ার কবর পাওয়া ছিল কঠিন। কখন, কোন দিক থেকে আসবে ঝড়, তা বোঝা যেত না। তবে এবার অনেক উন্নত হয়েছে প্রযুক্তি। হাতে আসছে নিখুঁত হিসেব। আর তারই প্রমাণ পাওয়া গেল ফণীতে।

ঠিক সময়ে সাইক্লোন ফণীর গতিবিধি ধরতে পারায় অনেকটাই কমানো গিয়েছে প্রাণহানির সংখ্যা। ঘণ্টায় প্রায় ১৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড় আছড়ে পড়েছে ওড়িশার উপকূলে। ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এখনও পর্যন্ত। তবে এত বড় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি তুলনায় অনেকটাই কম। আগাম সতর্কতা নেওয়ার জন্যই সেটা সম্ভব হয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের ভূমিকার জন্য তাই প্রশংসা করল রাষ্ট্রসংঘ।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সেক্রেটারি জেনারেলের ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশনের প্রধান মামি মিজুতোরি বলেন, “ফণির গতিবিধির সুনির্দিষ্ট আগাম পূর্বাভাস করায় প্রাণহানি কমানো গিয়েছে।”

আবহাওয়া দফতর, স্থানীয় প্রশাসনের তত্পরতার প্রশংসা করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। ঝড়ের পূর্বাভাস মিলতেই কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। ওড়িশার উপকূলে প্রায় ২.৮০ কোটি মানুষ বসবাস করেন। ৪ হাজার পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে আনার পাশাপাশি, স্কুল, কলেজ, অফিস-ও ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে হতাহতের সংখ্যা কম থাকে।

এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী পুরীতে মৃত্যু হয়েছে মোট ৩ জনের। এদের মধ্যে রয়েছে ১ কিশোর। পাশাপাশি ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ভুবনেশ্বরে। নয়াগড় ও কেন্দ্রপাড়ায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ জনের। গত ২০ বছরে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘুর্ণিঝড় ছিল ফণি। ১৯৯৯ সালে সাইক্লোনে ওড়িশা মৃত্যু হয় কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের।

ওডিশা থেকে পশ্চিমবঙ্গের কান ঘেঁষে ঝড় চলে গিয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।