লন্ডন:  ব্রিটেনের নতুন ৫০ পাউন্ডের নোটে আসতে পারে বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর ছবি। সম্প্রতি ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ড জানিয়েছে ২০২০ সালে আসবে ৫০ পাউন্ডের নতুন নোট। এই নতুন নোটে কার ছবি থাকবে তা নির্ধারণ করতে এক মনোগ্রাহী পদ্ধতি নিয়েছিল ব্রিটেন৷ সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ৫০ পাউন্ডের নতুন নোটে থাকবে কোন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ছবি৷ তবে সেই বিজ্ঞানিকে ব্রিটেনের বিজ্ঞানচর্চায় অবদান রেখে থাকতে হবে৷ এখানেই মনোনীত হয়েছে জগদীশচন্দ্র বসুর নামও।

ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডে এখনও পর্যন্ত ১ লাখ ৭৪ হাজার ১১২ জন বিজ্ঞানীর নাম পাঠানো হয়েছে। ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডের সমীক্ষার প্রথম পর্যায়ে মনোনীতদের মধ্যে জগদীশচন্দ্র বসুর নাম রয়েছে।এই তালিকায় রয়েছেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার, গ্রাহাম বেল ও অন্যরা। ১৪ ডিসেম্বরের পর এনিয়ে বিচার বিবেচনা করবে ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ড। এই তালিকার অন্য ৬০০ জন পুরুষ ও ২০০ জন নারীর মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যালান টিউরিং এবং অ্যাডা লোভেলেস, বিজ্ঞানী জন স্নো, জ্যোতির্বিজ্ঞানী প্যাট্রিক মুর প্রমুখ।

জগদীশ আলোক এবং বেতার তরঙ্গের গবেষণাকে উন্নত করেন। তিনি দেখলেন তরঙ্গের আলোক প্রকৃতি ব্যাখ্যায় বৃহৎ দৈর্ঘ্যের তরঙ্গ খুবই অনগ্রসর। তাই তিনি তরঙ্গকে মিলিমিটার পর্যন্ত হ্রাস করলেন (প্রায় ৫ মি.মি.)। জনশ্রুতি রয়েছে ১৮৯৪ এর কোনও এক নভেম্বরে বোস তার মিলিমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তরঙ্গ দিয়ে কলকাতা টাউন হলে গানপাউডার প্রজ্জ্বলিত করেন এবং টাউন হল থেকে ৭৫ ফুট দূরে অবস্থিত একটি ঘন্টা বাঁজাতে সক্ষম হন। বলা বাহুল্য যে ঘন্টা বাজানোর জন্য এই তরঙ্গকে একটি দেয়াল টপকাতে হয়েছিলো। এই ক্ষুদ্রতরঙ্গের উপরে লেখা তাঁর ‘অদৃশ্য আলোক’ (Invisible Light) বইটিতে তিনি লিখেছেন যে অদৃশ্য আলো (অর্থাৎ ক্ষুদ্রতরঙ্গ) সহজেই ইটের দেয়াল এমনকি দালান ভেদ করে বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে এর সাহায্যে সহজেই তার ছাড়াই যেকোনো বার্তা একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রেরণ করা যেতে পারে।

জগদীশ চন্দ্র বোসের এই ছোট সাফস্য পেতে চলা নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে হইচই পড়ে গেছে৷ অনেক টুইটারাতিই লিখেছেন দেশের কোন রাজনৈতিক নেতা কিংবা দল এ নিয়ে কাজ করেননি৷ অথচ বিদেশের মাটিতে সম্মান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই বিজ্ঞানের সাধকের জন্য৷