ডাবলিন: আয়ারল্যাণ্ডের শ্যানন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে রোজকার ব্যস্ততা৷ তবে ফোনটা এসেছিল অসময়ে৷ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের পাইলটের গলায় তখন অবাক বিস্ময়৷ দ্রুত জানতে চাইলেন, তার বিমানের গতিপথে কোনও সামরিক মহড়া চলছে কি?

ফোনের প্রশ্ন শুনে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের আধিকারিকরা৷ কারণ মহড়া থাকলে সব সময়ই জানানো হয় ওই পথ ধরে চলাচল করা সব বিমানকে৷ কিন্তু কোনও সামরিক মহড়া সেদিন ছিল না৷ তা শুনে আরও বিস্ময়ে বিমানচালক৷ পরের প্রশ্ন ছিল আরও অবাক করার মত৷ জানতে চেয়েছিল, তাহলে মাঝ আকাশে অত দ্রুত কি ছুটে বেড়াচ্ছে?

ফাইল ছবি

জায়গাটা আয়ারল্যাণ্ডের দক্ষিণ পশ্চিম সমুদ্র উপকূল৷ ৯ নভেম্বরের ঘড়ি বলছে তখন স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা বেজে ৪৭ মিনিট৷ তখনই অদ্ভুত আলোর গোলাকার বস্তুকে মাঝআকাশে দ্রুত ছুটে বেড়াতে দেখেন ওই বিমানচালক৷ প্রাথমিক বিস্ময় কাটিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেন শ্যানন ট্রাফিক কন্ট্রোলকে৷ পরে জানতে পারেন, বস্তুটা অজানা কোনও জিনিস৷ সামরিক মহড়ার জন্য এই আলো দেখা যায়নি৷

খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তদন্তে নামে আইরিশ অ্যাভিয়েশন অথরিটি৷ যে বিমানের চালক এই অদ্ভুত আলোটি দেখতে পেয়েছিলেন, সেই বিমানটি কানাডার মন্ট্রিয়াল থেকে হিথরোর দিকে যাচ্ছিল৷ বিমানচালকের কথায় ওই আলোটি খুব একটা স্বাভাবিক ছিল না৷ খুব উজ্জ্বল একটা চোখ ধাঁধানো আলো ছিল সেটি৷ বিমানের বাঁ দিক দিয়ে দ্রুত ওই আলোকিত বস্তুটি চলে যায়৷

ফাইল ছবি

 

এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ওই বস্তুটি কি ইউএফও? নাকি কোনও উল্কা পিণ্ড যা বাতাসের সংস্পর্শে এসে জ্বলে গিয়েছে? তবে সন্দেহ দানা বাঁধছে একটি বিষয়ে৷ ওই উজ্জ্বল বস্তুটি উল্কাপিণ্ড হলে বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষ অবধারিত ছিল৷ কিন্তু কোনও ভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মত গতিবিধি ছিল সেটির, যা কোনও ভাবেই উল্কার মধ্যে থাকবে না৷

বিমান চালকের ব্যাখ্যা শুনে তদন্তে নেমেছে আইরিশ অ্যাভিয়েশন অথরিটি৷ তবে তদন্ত চলছে গোপনে৷ যার প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ্যে আনা হবে না বলেই জানানো হয়েছে৷