মুম্বই: বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা মুসলিমদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত বলে দলীয় মুখপত্র ‘সামনা’য় সওয়াল করলেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। একইসঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়েও দলীয় মুখপত্রে মুখ খুলেছেন শিবসেনা প্রধান। কেন্দ্রের নাগরিকত্ব আইনে বেশ কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে বলেও দাবি করেছেন উদ্ধব। অবিলম্বে আইনের সেই ফাঁকফোকর গুলি সংশোধন করে নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন শিবসেনা প্রধান।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভ-আন্দোলনের মাঝেই এবার শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক ছড়াল। একইসঙ্গে দলের অবস্থানও আরও একবার স্পষ্ট করলেন উদ্ধব। দলীয় মুখপত্র সামনা-য় সেনাপ্রধান উদ্ধব বলেন, ‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসে বসবাসকারী মুসলিমদের অবিলম্বে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে কোনও দ্বিধা থাকা উচিত নয়। শিবসেনা বরাবরই হিন্দুত্ববাদের জন্য লড়াই করেছে।’ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে পরোক্ষভাবে সমর্থন করেই উদ্ধব ঠাকরে জানান, সিএএ তৈরি হলেও সেই আইনেও একাধিক ফাঁক রয়েছে। কেন্দ্রের উচিত সেই ফাঁক গুলিকে সংশোধন করে দেওয়া।

গত বছরই দীর্ঘদিনের সঙ্গী বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে কংগ্রেসের হাত ধরেছে শিবসেনা। এনসিপিকে সঙ্গে নিয়ে মহারাষ্ট্রে সরকার গড়েছে শিবসেনা। তবুও হিন্দুত্ববাদী আদর্শ থেকে এতটুকু সরছে না সেনা। শিবসেনা প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের স্পষ্ট বার্তা, ‘আমাদের ভিতরের রং গেরুয়াই।’

মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোটের পর একের পর এক নাটকের সাক্ষী থেকেছে মারাঠাভূম। প্রথমেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে জানিয়ে রাজ্যপালের কাছে সরকার গড়ার দাবি জানান দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। দীর্ঘ নাটক শেষে শেষমেশ সরকার গঠনে ব্যর্থ হয় বিজেপি। তারপর মাঠে নামেন রাজনীতির চাণক্য বলে পরিচিত এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার। সব বিতর্ক সরিয়ে দফায় দফায় বৈঠক সারেন শিবসেনা ও কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে। মারাঠাভূমে সরকার গড়তে ময়দানে নামেন স্বয়ং সনিয়া গান্ধীও। দফায় দফায় দূত পাঠান মুম্বইয়ে। কীভাবে রাজনৈতিক মতাদর্শগত ফারাক ঘুচিয়ে জোট সরকার তৈরি হবে তা নিয়ে চলে বিস্তর আলোচনা। শেষে ঐক্যমত্যে পৌঁছনো সম্ভব হয়। বিজেপি-সঙ্গ ছাড়ে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী শিবসেনা। কংগ্রেস ও এনসিপিকে নিয়ে তৈরি হয় নয়া মহারাষ্ট্র সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন শিবসেনা প্রধান তথা বালাসাহেব ঠাকরের পুত্র উদ্ধব ঠাকরে।

বরাবরই হিন্দুত্ববাদী আদর্শ নিয়ে চলা শিবসেনা কীভাবে সেকুলারিজমে বিশ্বাসী কংগ্রেস ও এনসিপির সঙ্গে পথ চলবে তা নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক মহলে চলছিল জল্পনা। বিজেপি নেতাদের এখনও দাবি, মহারাষ্ট্রে সরকার বেশি দিন চালাতে পারবে না জোট। ক্রমেই নাকি জোটের অন্দরে মতাদর্শগত ফারাক বাড়বে। যদিও সেই সম্ভাবনাকে আমল দিতে নারাজ উদ্ধব ঠাকরে থেকে শুরু করে শরদ পাওয়ার ও সনিয়া গান্ধীরা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ