মুম্বই: মহারাষ্ট্রে মহাবিপদ। একদিকে মারণ করোনার থাবা এবার অন্যদিকে সাইক্লোনের ভ্রূকুটি। বুধবার বিকেলেই প্রবল শক্তি নিয়ে মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়ার আশঙ্কা সাইক্লোন নিসর্গের। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যেতে পারে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২ দিন রাজ্যবাসীকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের।

গোটা দেশের করোনার সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রে। বুধবার সকাল পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ৩০০।

মহারাষ্ট্রে করোনায় মৃত বেড়ে ২ হাজার ৪৬৫। এদিকে, এদিনই বিকেলে রাজ্যের উপকূলে ঘুর্ণিঝড় নিসর্গ আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে মৌসম ভবন। সুপার সাইক্লোনের রূপ নিতে চলেছে নিসর্গ। সেই কারণেই সাধারণ মানুষকে তৈরি থাকতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।

নিসর্গে তছনছ হতে পারে মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্রের একাধিক এলাকা। যা রীতিমতো উদ্বেগ বাড়িয়েছে রাজ্য সরকারের। বিপদ এড়াতে সাধারণ মানুষকে আগামী ২ দিন বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় নেমে এলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকবে। আগেভাগে প্রয়োজন মতো বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখতে আবেদন জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে একটানা লকডাউনের পঞ্চম পর্যায়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আনলক. ১ তৎপরতা শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্রেও। দোকান-বাজার, গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা আপাতত ২ দিনের জন্য সেই সব তৎপরতাই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মহারাষ্ট্র সরকারের।

মৌসম ভবন জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়লে অনন্ত ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিমি বেগে হাওয়া বইবে, সঙ্গে চলবে ভারী বৃষ্টিপাত। মহারাষ্ট্র ও গুজরাত উপকূলে ৩০টি এনডিআরএফ দল মোতায়েন করা হয়েছে। উপকূলে প্রস্তুত উপকূলরক্ষী বাহিনী। বায়ুসেনা, নৌসেনাও সতর্ক।

গুজরাতের দু’টি জেলার ২০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। সরানো হচ্ছে মহারাষ্ট্রের নিচু এলাকা ও মুম্বইয়ের বস্তিবাসীদেরও। মহারাষ্ট্রে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে ‘নন-কোভিড’ হাসপাতালগুলিকে। ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা পেয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে মহারাষ্ট্র ও গুজরাত সরকার। উপকূল এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরানো হচ্ছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প