মুম্বই : করোনার কাঁটায় বিধ্বস্ত গোটা দেশ। উদ্বেগ বাড়িয়ে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে সংক্রমণের পারদ। এই অবস্থায় চারিদিকে শুধুই ত্রাহি ত্রাহি রব। আর দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মহারাষ্ট্রের। দিন যত যাচ্ছে ততই মহারাষ্ট্রের দৈনিক সংক্রমণ ভেঙে দিচ্ছে অতীতের সব রেকর্ড।

আর এই অবস্থায় সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে এবার আর নাইট কার্ফু নয়, পুরোপুরি লকডাউনের পথে হাঁটতে চলেছে উদ্ধব ঠাকরের রাজ্য। সরকারি সূত্রে খবর, প্রতিনিয়ত যেভাবে মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে তাতে ফের বড়সড় বিপদ এড়াতে রাজ্যে পুরোপুরি লকডাউন জারির কথা ভাবছে সরকার।

জানা গিয়েছে, এই বিষয়ে রাজ্যের সমস্ত দফতরের মন্ত্রীরা মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের কাছে লকডাউন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যাবতীয় সিদ্ধান্ত আজ রাত ৮ টার পর ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই বিষয়ে মহারাষ্ট্রের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, “করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সংক্রমণের রেশ আটকাতে আমরা সকলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আগামীকাল থেকে মহারাষ্ট্রে লকডাউন ঘোষণার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। তবে লকডাউন করা হবে কি না এটা সম্পূর্ণভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।”

অন্যদিকে দেশের মধ্যে করোনার সেকেন্ড ওয়েভে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য হল মহারাষ্ট্র । সেখানে দৈনিক সংক্রমণের হার ৫০,০০০ ছুঁয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮,৯২৪ জন। করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫১ জন।

এছাড়াও, স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ১৭০ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৬১ জনের। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত দেশে ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ২১ হাজার ৮৯ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৫৩০ জনে। অ্য়াক্টিভ মামলার সংখ্যা ২০ লক্ষ ৩১ হাজার ৯৯৭। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৭৬১ জন। এখনও পর্যন্ত মোট সুস্থতার সংখ্যা ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৮ হাজার ৫৮২। করোনাকে ঠেকাতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে টিকাকরণ প্রক্রিয়া। এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে দেশের ১২ কোটি ৭১ লক্ষ ২৯ হাজার ১১৩ জনকে। মঙ্গলবারের রিপোর্ট অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা হলেও কম। করোনার এই ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিতে এটুকুই যা সাময়িক স্বস্তি।

এদিকে, মে থেকে ১৮ বছর হলেই করোনা টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। এখন ৪৫ ঊর্ধ্বদের জন্য করোনা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা সারা দেশে চালু আছে। এখন করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার জেরে দেশের করোনা পরিস্থিতি সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে প্রশাসনকে। এর ফলে আবার দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ার জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। তাই সেই জায়গা থেকে ১৮ বছর হলেই করোনার টিকা দেওয়ার এই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কেননা ভারতে তরুণ প্রজন্মের সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। আর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কোনও বয়সকেই ছাড়ছে না। তাই এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন বিশিষ্টরা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.