মুম্বই: ১৮ তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বৃহস্পতিবার মারাঠা ভূমিতে শপথ নিতে চলেছেন সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। যার ফলে অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বিগত কয়েকদিন ধরে চলা নাটকের অবশেষে যবনিকা পরতে চলেছে আগামীকাল। ৫৯ বছর বয়সী উদ্ধব হবেন শিবসেনার তৃতীয়জন, যিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বৃহস্পতিবার। এর আগে মনোহর যোশি এবং নারায়ণ রাও এই পদে আসীন হয়েছিলেন।

এর আগে এই রাজ্যতে হওয়া নির্বাচনে শিবসেনা জোট বাঁধে বিজেপির সঙ্গে। নির্বাচনী ফলপ্রকাশের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের আধাআধি ভাগ নিয়ে শিবসেনা নিজেদের দাবি জানিয়েছিলেন। যা মানতে রাজি ছিলেন না বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। যার ফলে এই দুই দলের মধ্যে ক্রমেই ক্ষোভ চরমে উঠেছিল।

এছাড়া সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছিলেন, কোনরকম মিথ্যে তিনি মানবেন না। তিনি ছাড়াও শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বিজেপির পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সমানে তোপ দেগেছিলেন। এছাড়া তাঁদের মুখপাত্র সামানাতেও বিজেপির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সমালোচনা করা হয়েছিল। সঞ্জয় রাউত জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী আসন ভাগ করা নিয়ে তারা নিজেদের দাবি থেকে সরবে না। প্রয়োজন পড়লে তারা বিকল্প পন্থা নেবেন বলেও জানিয়েছিলেন।

তারপরেও তাঁদের দাবি মানতে রাজি হয়নি বিজেপি শিবির। এমনকি তাঁদের তরফ থেকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেবেন্দ্র ফড়নবীশের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। যার পর থেকে বিজেপি এবং শিবসেনার বিরোধ চরমে পৌঁছায়। অবশেষে জোট ভেঙে শিবসেনা অন্য দুই দল যথাক্রমে এনসিপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন।

প্রথমদিকে শিবসেনাকে সমর্থন না জানালেও মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথাতে রেখে এবং স্থায়ী সরকার গঠন করার বিষয়ের জন্য কংগ্রেস এবং এনসিপি রাজি হয়েছিল শিবসেনাকে সমর্থন জানাতে। শিবসেনার দাবি মেনে তারা রাজি হয়েছিল সমর্থন জানাতে। এক ঝলকে একটু নজর দেওয়া যাক কোন কোন নেতা এই রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদে এর আগে চারবার বসেছিলেন। এর আগে ১৯৭৮ সালের ১৮ জুলাই এই পদে বসেছিলেন। যা ১৯৮০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তারপরে ১৯৮৮ সালের ২৫ জুন দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তার মেয়াদকাল ছিল ১৯৯০ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত।

এর পরে ১৯৯০ সালে ৪ মার্চ এই পদে পুনরায় বসেছিলেন পাওয়ার। এই সময়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন নরসীমা রাও। মুম্বই দাঙ্গার পরে তাকে পুনরায় এই রাজ্যতে পাঠানো হয়েছিল এবং তিনি ১৯৯৩ সালের ৬ মার্চ থেকে ১৯৯৫ সালের ১৩ মার্চ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদ সামলেছিলেন।

কংগ্রেসের প্রয়াত বসন্তদাদা পাতিল চারবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৯ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৬ মার্চ ১৯৭৮ পর্যন্ত। ১৯৭৮ সালের ৭ মার্চ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। ২ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩ থেকে ৯ মার্চ ১৯৮৫ এবং ১০ মার্চ ১৯৮৫ থেকে ১ জুন ১৯৮৫ পর্যন্ত। ১৯৬০ সালে মহারাষ্ট্রের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন যশবন্তরাও চাবান, ১৯৬০ থেকে ১৯৬২ সালের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত এই পদ সামলেছিলেন।

মারোতরাও কান্নামওয়ার ছিলেন দ্বিতীয়জন যিনি ২১ নভেম্বর ১৯৬২ থেকে ১৯৬৩ ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন।পরবর্তীকালে পি বি সাওয়ান্ত এই পদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ১৯৬৩ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বসন্তরাও নায়েক ৫ ডিসেম্বর১৯৬৩ থেকে ১৯৭৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। তিনিই ছিলেন এই রাজ্যর দীর্ঘতম মুখ্যমন্ত্রী।

শঙ্কররাও চাবান ২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তারপরে ১৯৮৬ সালে পুনরায় তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন ১৯৮৮ ২৪ জুন পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন। এ আর আন্তুলে ১৯৮০ ৯ জুন থেকে ১৯৮২ সালের ১২ জানুয়ারী পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রথম মুসলিম মুখ্যমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা ছিল। যে কারণে এই পদ ছাড়তে হয়েছিল তাকে।

বাবাসাহেব ভোসলে ১৯৮২ সালের ২০ জানুয়ারী থেকে ১৯৮৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের। শিবাজিরাও পাতিল ১৯৮৫ সালের ৩ জুন থেকে ১৯৮৬ ৭ মার্চ পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন। সুধাকাররাও নায়েক ২৫ জুন ১৯৯১ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৩ পর্যন্ত এই রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

সুধাকাররাও নায়েক ২৫ জুন ১৯৯১ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৩ পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন। মনোহর যোশী ১৪ মার্চ ১৯৯৫ থেকে ৩০ জানুয়ারী ১৯৯৯ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। নারায়ণ রানে ১৭ অক্টোবর ১৯৯৯ থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছিলেন। কেননা তিনি এসেছিলেন বালাসাহেব ঠাকরের জায়গাতে। তিনি ছিলেন ১৯৯৯ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

প্রয়াত বিলাসরাও দেশমুখ ১৮ অক্টোবর ১৯৯৯ থেকে ১৮ জানুয়ারী ২০০৩ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তারপরে ২০০৪ সালে আবারও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং ২০০৮ সালের ৭ ডিসেম্বর এই পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

২০০৩ সালের ১৮ জানুয়ারী থেকে ২০০৪ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সুশীলকুমার শিন্দে ছিলেন মারাঠাভূমির মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবীশ ছিলেন এই রাজ্যর প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমবার ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছিলেন। তার মেয়াদকাল ছিল ৯ নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত।

অর্থাৎ এই রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছিলেন অনেক রথী মহারথীরাও। আর তারপরে আগামীকাল এই রাজ্যর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন উদ্ধব। এর আগে এনসিপির অজিত পাওয়ারকে নিয়ে দলের মধ্যে তৈরি হয়েছিল চূড়ান্ত দ্বন্দ্ব। তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার স্বয়ং। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি জানিয়ে দেন কোনভাবেই এনসিপি ছাড়ছেন না তিনি। সব বিভাজনের অবসান ঘটেছিল তারপরেই। আর এই রাজ্য আগামী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন উদ্ধব ঠাকরে।