নয়াদিল্লি: এক সময়ে যে ব্যাংকের মালিকানা ছিল বিড়লা পরিবারের এবার সেই ব্যাংকই বিড়লা পরিবাবের এক সদস্যকে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি ঘোষণা করল৷ রাষ্ট্রায়ত্ত ইউকো ব্যাংক যশোবর্ধন বিড়লাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ঘোষণা করে৷ সংবাদ সংস্থার এমনই খবর দিচ্ছে ৷

গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে জিডি বিড়লা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক গড়ে তোলেন যা পরবর্তী কালে জাতীয়করণ হয়৷ এই ইউকো ব্যাংক থেকে বিড়লা সুরিয়া লিমিটেডকে যে ৬৭.৫৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল তা পরিশোধ না করায় সংস্থার কর্তা যশোবর্ধন বিড়লাকে ঋণখেলাপি বলা হয়েছে ৷

স্টেট অফ ব্যাংক, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক এবং ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ইউকো ব্যাংক কনসোট্রিয়ামের একটা অংশ রূপে ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল৷ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে ঋণখেলাপির কাছ থেকে ওই টাকা উদ্ধারের জন্য ৷ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে ঋণখেলাপির কাছ থেকে ওই টাকা উদ্ধারের জন্য ৷ এমন তথ্য ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া হল৷

ওই নোটিশ অনুসারে বিড়লা সুরিয়া লিমিটেডকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণসীমা (ক্রেডিট লিমিট) অনুমোদন করেছিল বহুমুখী সৌর ফটোভল্টিক সেল উৎপাদনের জন্য৷ যা ইউকো ব্যাংকের মুম্বই নরিম্যান পয়েন্টের কর্পোরেট শাখা থেকে দেওয়া হয়৷

ব্যাংকের টাকা সময় মতো পরিশোধ না করায় ২০১৩ সালের ৩ জুন তা অনুৎপাদক সম্পদ বলে ঘোষিত হয়েছিল৷ এরপর বার বার ব্যাংক নোটিশ দিলেও ঋণ গ্রহীতা তা পরিশোধ করেনি৷ এরফলে ওই সংস্থার প্রোমোটার, ডিরেক্টর, গ্যারান্টারদের ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং জনগণের কাছে তাদের নাম জানাতে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর কাছে তা রিপোর্ট করা থাকবে৷

রিজার্ভ ব্যাংকের নির্দেশ অনুসারে, একবার ঋণখেলাপি বলে ঘোষিত হলে ঋণগ্রহীতাকে অন্য কোনও ব্যাংক অথবা আর্থিক সংস্থা থেকে পাঁচ বছর আর কোনও অতিরিক্ত সুবিধা পাবে না কোনও নতুন ভেঞ্চারের জন্য ঋণ পাবে না৷ পাশাপাশি ঋণদাতারা ঋণখেলাপি সংস্থা এবং তার ডিরেক্টরদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে পারবে৷

কলকাতা ভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থাটির ইস্যু করা তালিকায় রয়েছে ৬৬৫জন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ৷ এছাড়া তালিকায় থাকা অন্যান্য ঋণ খেলাপিদের মধ্যে রয়েছে- জুম ডেভলপমেন্ট (৩৯০.৫০ কোটি টাকা) , ফাস্ট লিজিং কোম্পানি অউ ইন্ডিয়া (১৪২.৯৪ কোটি টাকা) মোজার বেয়ার (১২২.১৫ কোটি টাকা) এবং সূরিয়া বিনায়ক ইন্ডাস্ট্রি (১০৭.৮১ কোটি টাকা)৷