কলকাতা: ম্যাচের ১৮ মিনিটে সামাদের দূরপাল্লার শটটা খুঁজে নিয়েছিল বিপক্ষ গোলের ঠিকানা। নামমাত্র গোল হাতে নিয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিট অবধি ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের সব লড়াই ব্যর্থ হয়ে গেল অতিরিক্ত সময়ে মেহতাব সিংয়ের একটা ভুলে। বক্সে বিপজ্জনক অবস্থায় বল পেয়ে গোলমুখে আগুয়ান হেনরি কিসেকাকে টেনে ফেলে দেন মেহতাব সিং। নায্য পেনাল্টি থেকে গোকুলাম কেরলকে বঞ্চিত করেননি রেফারি।

ঠান্ডা মাথায় স্পটকিক তিনকাঠিতে রেখে লাল-হলুদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেন মার্কাস জোসেফ, ম্যাচের আগেরদিন যিনি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন লাল-হলুদ রক্ষণ ভাঙার। সে যাইহোক, শেষ মুহূর্তের ভুলে ঘরের মাঠে ডুরান্ড কাপটাই ফস্কে গেল আলেজান্দ্রোর টিমের। লাল কার্ড দেখে মেহতাব সিং মাঠের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে দশজনের ইস্টবেঙ্গল আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। যুবভারতীতে বুধবার হাইভোল্টেজ প্রথম সেমিফাইনালের নিষ্পত্তি হল টাইব্রেকারে। আর টাই ভাঙার খেলায় হাইমে কোলাডো ও তনদম্বার শট বাঁচিয়ে ম্যাচের নায়ক হয়ে রইলেন লাল-হলুদের প্রাক্তন গোলরক্ষক উবেদ।

রাইট ব্যাকে সামাদ, লেফট ব্যাকে মনোজ। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে মার্তি ক্রেসপি ও মেহতাব সিংকে রেখে গত ম্যাচের দলে এদিন ছ’টি পরিবর্তন আনেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ। তেকাঠির নীচে লালথুয়ামাওয়াইয়াকে সরিয়ে সেমির লড়াইয়ে জায়গা করে নেন মিরশাদ মিচু। সামাদ আলি ও পিন্টু মাহাতার ডানপ্রান্তিক আক্রমণে ম্যাচে ধীরে ধীরে আধিপত্য বজায় করতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। ১৮ মিনিটে ফলও মিলে যায়। সামাদের দূরপাল্লার শট বিপক্ষের এক ফুটবলারের গায়ে সামান্য প্রতিহত হয়ে জড়িয়ে যায় বিপক্ষের জালে। লালরিনডিকা ও কাশিম আইদারা মাঝমাঠে সক্রিয় থাকায় আক্রমণে ধার বাড়াতে পারেনি জোসেফ সমৃদ্ধ গোকুলামের আক্রমণ।

ম্যাচের রাশ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে রেখে প্রথমার্ধে আরও বারদু’য়েক গোলের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন সামাদ এবং পিন্টু। একটি ক্ষেত্রে উবেদের বিশ্বস্ত দস্তানা বিপদ থেকে বাঁচায় দলকে। আরেকটি সুযোগ থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন পিন্টু। তাই প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে থেকেই লকাররুমে যায় আলেজান্দ্রোর ছেলেরা।

তবে বিরতি থেকে ফিরে এসে কিসেকার মাধ্যমে প্রথম ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করে গোকুলাম। এযাত্রায় ব্যর্থ হন উগান্ডার স্ট্রাইকার। সারা ম্যাচে সতীর্থ কিসেকার যোগ্য সহায়তার অভাবে নিষ্প্রভ হয়ে রইলেন ত্রিনিদাদের স্ট্রাইকার জোসেফও। ম্যাচ শেষের মিনিট ১৫ আগে ব্রুনো পেলিসারি ও মহম্মস সালাহ’র অন্তর্ভুক্তি কিছুটা ঝাঁঝ বাড়ায় গোকুলাম রক্ষণে। তবে নির্ধারিত সময়ে লাল-হলুদ রক্ষণ ভেদ করে ডেডলক খুলতে পারেনি তারা।

এরপর অতিরিক্ত সময় সবাই যখন ধরে নিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের জয় শুধু শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা, ঠিক তখনই নাটকীয় পটপরিবর্তন। লাল-হলুদ ডিফেন্সের মুহূর্তের গলদে ভেসে আসা বল বক্সে পেয়ে বিপজ্জনক কিসেকা গোলমুখে উদ্যত হলে তাঁকে অবৈধ ফাউল করে বসেন মেহতাব। লাল-হলুদ ডিফেন্ডারকে সরাসরি লাল কার্ডের পাশাপাশি রেফারি গোকুলামকে পেনাল্টির নির্দেশ দিলে ম্যাচে সমতা ফেরে। নিউমেরিক্যাল সুপ্রিমে পিছিয়ে পড়া ইস্টবেঙ্গল অতিরিক্ত সময় কার্যত ঘর সামলাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এসময় তেকাঠির নীচে মিরশাদ ঢাল না হয়ে দাঁড়ালে গোল হজম করতেই পারত কলকাতা প্রধান।

অতিরিক্ত সময় কোনওপক্ষই গোল না করতে পারায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। স্পটকিক থেকে নেওয়া লালরিনডিকার প্রথম শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। এরপর প্রাক্তনী উবেদের বিশ্বস্ত দস্তানায় আটকে যান কোলাডো ও তনদম্বা। একইসঙ্গে থমকে যায় লাল-হলুদের ডুরান্ড জয়ের স্বপ্ন।