টোকিও: ঝড়ের চেহারা যে ভয়ংকর হতে চলেছে, তা আগেই অনুমান করেছিলেন আবহাওয়া বিদরা। আর সেই আশঙ্কা সত্যি করেই কর্কশ চেহারা নিয়েছে টাইফুন হাগিবিস। এই ঝড়ে জাপানে অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা। কারন, এখনও পর্যন্ত খোঁজ নেই বহু মানুষের। শনিবার জাপানে আছড়ে পড়ে সেই টাইফুন। ইচিহারা শহরে সবথেকে বেশি প্রভাব পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।

১২ টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েচে। ক্ষতিগ্রস্ত আরও ৮৯টি বাড়ি। তোমিওকা শহরে কয়েকজনের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই শহরে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারটি বাড়ি। সেখান থেকে ছ’জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গোতেম্বা শহরে এক ব্যক্তি ঝড়ের ধাক্কায় ড্রেনে ভেসে গিয়েছে। ১.৬ মিলিয়ন মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে। প্রবল বেগে আছড়ে পড়া এই ঝড়ের সঙ্গে হবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত, সঙ্গে ধস এবং বন্যা। দেখুন সেই ভয়াবহ টাইফুনের ছবি।

এমনকি সতর্কবার্তায় এমনটাও বলা হয়েছে যে, এত বৃষ্টি হবে যা আগে কখনও দেখেনি জাপান। পাশাপাশি আশঙ্কা করা হচ্ছে, টাইফুনের দাপটে বৃদ্ধি পেতে পারে সমুদ্রের জলের মাত্রাও। সমুদ্রে ৪৫ ফুট ঢেউ ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই মুহূর্তে জাপানের অবস্থা কার্যত থমথমে। বাতিল করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বিমানের উড়ান। রাস্তাঘাটেও লোকজন অপেক্ষাকৃত অনেকটাই কম।

জানা যাচ্ছে, ধাবমান টাইফুনের গতিবেগ হতে পারে প্রায় ১৯৫ কিমি প্রতি ঘন্টা। যার জেরে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। এই ঝড় নিয়ে কিছুটা চিন্তিত রয়েছে নাসাও। নাসার তরফে জানানো হয়েছে এটাই শতাব্দীর ভয়ঙ্করতম ঘূর্ণিঝড় হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, এই মরশুমে জাপানে এটি ১৯ তম টাইফুন। গত বছরেও ভয়ঙ্করতম সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়েছিল জাপান। মৃত্যু হয়েছিল বহু মানুষের। কিন্তু এবার যেন কোনও প্রাণহানি না হয় সে জন্য আগে থেকেই কোমর কষে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জাপানের নানান বিভাগ। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবে ‘হাগিবিস’ এর মোকাবিলায় সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন