তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার দুই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিলেন। বুধবার শহরের হিন্দু হাই স্কুল মাঠ থেকে অসংখ্য কর্মী সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে মিছিল করে জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর (তফঃ) লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরা মনোনয়নপত্র জমা দেন৷ তাঁরা এই মুহূর্তে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড, দলের বাঁকুড়া জেলা ‘অবজার্ভার’ তথা যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাঁরা।

এদিন দুপুরে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় জেলাশাসক তথা জেলা মুখ্য নির্বাহী আধিকারিক ডাঃ উমাশঙ্কর এসের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন৷ পাশাপাশি বিষ্ণুপুর (তফঃ) লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী শ্যামল সাঁতরা অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) তথা ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার অসীম কুমার বিশ্বাসের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় নিজের জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী বলে জানান। তিনি বলেন, এবারে তাঁর প্রতিপক্ষ কে ভেবে পাচ্ছেন না। তবে সিপিএম-বিজেপি ভোট কাটাকুটি হোক এটা তিনি চাইছেন বলে জানান। অন্য দিকে বিষ্ণুপুর (তফঃ) লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরা স্ত্রী প্রীতিকণা সাঁতরা ও ছেলেকে পাশে নিয়ে নিজের জয়ের ব্যাপারে পাঁচশো শতাংশ আশাবাদী৷

তিনি দাবি করেন, ‘‘আমরা সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকি। বিরোধীদের মতো পাঁচ বছর অন্তর ভোটের সময় হাজির হই না। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলিকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন, কাওকেই হালকা ভাবে নিচ্ছি না। সবাই প্রতিপক্ষ।’’ তবে যাই হোক না কেন নিজের জয়ের ব্যাপারে পাঁচশো শতাংশ আশাবাদী বলে দৃঢ় প্রত্যয়ী তিনি৷

যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, জঙ্গল মহলে তৃণমূল কংগ্রেস সর্বত্র। গত পঞ্চায়েত ভোটে মুষ্টিমেয় কিছু ‘আবর্জনা যারা জিতেছিল তারা বারে বারে জঙ্গল মহলকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছে’। এদের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। যেদিন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিলেন সেদিন ছিল মহালয়া। আজ পুষ্পাঞ্জলি তিনি দিয়ে গেলেন আর ২৩ মে বিরোধীদের বিসর্জন হবে বলে তিনি দাবি করেন।

এর পরেই ভারতবর্ষে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বলেও দাবি করেন তিনি৷ বলেন, বাংলার সংস্কৃতিকে হটিয়ে দিয়ে উত্তর প্রদেশের সংস্কৃতি জোর জবরদস্তি করে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রামের নামে এরা অনেক দিন ধরে ভোট চাইছে। কিন্তু রামের নামে এখন আর ভোট এরা পাচ্ছে না। মানুষ সব বুঝে গিয়েছে, পেট্রোল একশো টাকা, গ্যাসের দাম এক হাজার ছুঁয়েছে। ফেক দেশপ্রেম, দ্বিচারেতা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি, ধর্মীয় মেরুকরণ, রাজনীতি এই সব নিয়ে বাংলায় আর রাজনীতি করা যাবে না।

সাগর থেকে হিমালয় সর্বত্র তৃণমূলময় দাবি করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বলেন, এই দুই কেন্দ্রেই তাঁদের প্রার্থীরা জিতবে। কে সেকেন্ড আর কে থার্ড হবে বিমান বসু, দিলীপ ঘোষরা বসে ঠিক করুন বলেও এদিন তিনি দাবি করেন। বিষ্ণুপুরের ‘বিদায়ী’ তৃণমূল সাংসদ ও এবারে ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, খুন, ধর্ষণ, মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, বালি পাচার কি মামলায় সে অভিযুক্ত নয়। যখন সে বুঝেছে, এবার তৃণমূলের টিকিট পাবে না তখনই সে গিয়েছে বলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দাবি করেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় এই দুই প্রার্থীর সঙ্গে জেলাশাসকের দফতরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি অরূপ খাঁ, জেলা পরিষদের ‘মেন্টর’ অরূপ চক্রবর্তী, তালডাংরার বিধায়ক সমীর চক্রবর্তী প্রমুখ।