স্টাফ রিপোর্টার, কসবা: এলাকার দখলকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূলের বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ কলকাতার কসবা এলাকা৷ সোমবার সাত সকালে দু’পক্ষের মধ্যে লড়াইয়ের জেরে কার্যত মুড়ি মুড়কির মতো বোমা পড়তে থাকে কসবার নস্কারহাট-রায়পাড়া এলাকায়৷ ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়৷ পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷

এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশি টহল চলে৷ তবে গ্রেফতারের কোনও খবর নেই৷ ঘটনাস্থল থেকে একাধিক তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ ঘটনার জেরে আতঙ্কে এদিন সকাল থেকে বাসিন্দারা কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েন৷ তবে বেলার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়৷

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই চলছে৷ একদিকে রয়েছেন রবি রায় নামে এক তৃণমূল কর্মী৷ অন্যদিকে রয়েছেন কলকাতা পুরসভার ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের বেবি নস্কর৷ এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ৷

রবি রায়ের দাবি, রবিবার রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ থেকে তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি শুরু হয়৷ এই ঘটনায় কাউন্সলর বেবি নস্কর জড়িত বলেই তিনি অভিযোগ করেছেন৷ তাঁর দাবি, তিনি মন্ত্রী জাভেদ খানের অনুগামী হওয়ায় তাঁর উপর হামলা হচ্ছে৷তাঁকে বেবি নস্কর নিজের গোষ্ঠীতে টানতে চাইছে৷ তিনি যেতে রাজি না হওয়ায় হামলা হচ্ছে৷ এ নিয়ে বেবি নস্করের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷ তবে তাঁর অনুগামীরা, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ তাঁদের দাবি, রবি রায়ের জন্যই এলাকার পরিস্থিতি বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে৷ বোমা বাজির বিষয়টি নিয়ে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বরা৷ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে৷

যদিও শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর বোমাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা৷ তাঁদের কথায়, কালীপুজোর সময় পুলিশ শব্দবাজি ধরপাকড়ে যদি সত্যি তৎপর হয়ে থাকে, তাহলে এই তাজা বোমা শহরে ঢুকল কী করে? পুলিশের কর্তারা অবশ্য এবিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি৷