নয়াদিল্লি: যেসব পরিযায়ী শ্রমিক করোনার কারণে লকডাউন জারি হওয়ায় নিজেদের বাড়ি ফিরেছিলেন তাদের দুই-তৃতীয়াংশ ফের কাজের শহরে ফিরেছে অথবা ফিরতে চাইছে গ্রামে তাদের জন্য কাজের সুযোগ নেই বলে। একটি সমীক্ষা রিপোর্ট এমনটাই জানাচ্ছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার জনের উপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সমীক্ষাটি করেছে আগা খান রুরাল সাপোর্ট প্রোগ্রাম ইন্ডিয়া, অ্যাকশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট , গ্রামীন সাহারা, ট্রান্সফরম রুরাল ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন সহ কয়েটি সংস্থা মিলে।

সমীক্ষার জন্য গত ২৪ জুন থেকে ৮ জুলাই দেশের ১১টি রাজ্যের ৪৮টি জেলার ৪৮৩৫ জনের সঙ্গে কথা বলা হয়। তখন দেখা যায় ২৯ শতাংশ পরিযায়ী যারা গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিল ‌ তারা ফের শহরে ফিরেছে। পাশাপাশি ৪৫ শতাংশ ফিরতে চাইছে। সমীক্ষা রিপোর্টে জানানো হয়েছে, গ্রামেতে উপযুক্ত দক্ষ কাজের অভাব প্রতিফলিত হয়েছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পরিযায়ী শ্রমিক এভাবে শহরে ফেরায় অথবা ফিরতে চাওয়ায়।

এই সমীক্ষা লক্ষ্য করেছে পরিযায়ী শ্রমিক যারা ফিরেছে মূলত তাদের ৮০ শতাংশই গ্রামে বাস করে। এই গ্রামে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকের এক-চতুর্থাংশের বেশি এখনও গ্রামে কাজের খোঁজ করছে। পরিস্থিতি এমনই যে প্রতি চারজনের একজন (২৪ শতাংশ) ভাবছে শিশুদের স্কুল ছাড়িয়ে দেবে। তাছাড়া এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে, গ্রামে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে ৪৩ শতাংশের খাবার কমেছে অন্যদিকে ৫৫ শতাংশের খাবারের পদ কমে গিয়েছে।

তবে লকডাউনের সময়ের তুলনায় খাবার নেওয়ার ক্ষেত্রে অবস্থার উন্নতি হয়েছে কারণ গণবণ্টন ব্যবস্থায় খাদ্য সামগ্রী মেলায় বাজার থেকে এদের জিনিস কম কিনতে হয়েছে । এই পরিস্থিতিতে ১৬ শতাংশ তাদের বাড়িতে থাকা জিনিস বন্ধক রেখেছে এবং ১৫ শতাংশ বাড়িতে থাকা প্রাণিসম্পদ বিক্রি করেছে অর্থের অভাবের কারণে। দেখা গিয়েছে ১০ শতাংশ বৃহত্তর পরিবারের কারও কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছে এবং ৭ শতাংশ ধার করেছে মহাজনের কাছ থেকে। সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে, ৩৫ শতাংশ এই সময় তাদের বাড়ির কোন অনুষ্ঠান বাতিল করেছে এবং ১৩ শতাংশ অনুষ্ঠানে অতিথি সংখ্যা রীতিমতো কমিয়ে দিয়েছে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও