স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: খাগড়াগড় কাণ্ডে বড় সাফল্য পেল এনআইয়ে গোয়েন্দারা। গ্রেফতার করা হল ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত দুই জঙ্গিকে। ধৃত দুই জঙ্গির নাম কদর কাজি ও সজ্জাদ আলি৷

সোমবার রাজ্য পুলিশের সঙ্গে হুগলিতে যৌথ অভিযান চালায় এনআইএ৷ ওই অভিযানে আরামবাগের ডোঙ্গল এলাকা থেকে কদর কাজি ও সজ্জাদ আলি পাকড়াও করা হয়৷

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পুলিশের নজর এড়াতেই ওই এলাকায় রাজমিস্ত্রি সেজে গা ঢাকা দিয়েছিল এই দুই জামাত-উল-মুজাহিদিন জঙ্গি৷ তাদের জীবনযাপনও ছিল অত্যন্ত সাধারণ মানের৷ পরে গোপনসূত্রে খবর পেয়ে তাদের ধরে ফেলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা৷ এদিনই ধৃত দুই জঙ্গিকে তোলা হয় ব্যাঙ্কশাল কোর্টের বিশেষ এআইএ-র বিশেষ আদালতে৷ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই জঙ্গির এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর দুপুরে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়ির মালিক নুরুল হাসান চৌধুরী তৃণমূলের স্থানীয় নেতা। তবে তিনি ওই বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন নদিয়ার বাসিন্দা শাকিল আহমেদকে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ভাড়াটে শাকিল। পরে মারা যায় ওই বাড়ির আরও এক বাসিন্দা সোভান মণ্ডল৷ সোভান-ই ছিল দ্বিতীয় জঙ্গি। তৃতীয় জঙ্গি আবদুল হাকিম বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়।

পুলিশ নিহত শাকিল ও জখম আবদুলের দুই স্ত্রীকে গ্রেফতার করে। ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় প্রচুর বিস্ফোরক, বোমা তৈরির মশলা, সরঞ্জাম। ঘটনার পর দিন (৩ অক্টোবর) দিল্লি থেকে খাগড়া বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে আসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জানা যায়, ওই বিস্ফোরণের সঙ্গে জেএমবি জড়িত। কলকাতায় সেই বছর দুর্গাপুজোয় নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল তাদের।

তদন্তে নেমে আগের বছর অগস্টে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ-কাণ্ডের অন্যতম পাণ্ডাকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করে এনাইএ৷ মহম্মদ জহিদুল ইসলাম ওরফে কওসরকে বহুদিন ধরেই খুঁজছিল পুলিশ৷ ধৃত কওসর জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়৷ এই কওসর-ই ভারতে জেএমবি জঙ্গিদের মাথা বলে খবর।

পুলিশের নজর এড়াতে সে অনেকগুলি নাম ব্যবহার করে৷ যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মুন্না, মিজ়ান ও বোমা মিয়াঁ। আপাতত এনআইএ হেফাজতে রয়েছে সে৷ এরপর এদিন ফের খাগড়াগড় কাণ্ডে বড়সর সাফল্য পেল এনআইএ৷ খাগড়াগড়কাণ্ডের পর সন্দেহভাজন বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়৷ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা ২০৷ ধৃত দুই জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে এনআইএ গোয়েন্দারা৷