স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: স্কুলের টিচার্স রুম নাকি কুস্তির ময়দান৷ আগে থেকে বলে না দিলে বোঝার উপায় নেই৷ সব ভুলে দুই শিক্ষিকা মত্ত চুলোচুলিতে৷ দাঁড়িয়ে দেখছে ছাত্ররা৷ সহকর্মীদের শত চেষ্টাতেও তখন কে শোনে কার কথা! স্কুলের পরীক্ষায় এক ছাত্রের খাতা হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত৷

শেষ পর্যন্ত ঘটনা গড়ায় থানা পর্যন্ত৷ বিবদমান দুই শিক্ষিকারা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷ ঘটনা পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের গোপালপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের৷ ভবিষ্যত প্রজন্মকে শিক্ষা দেওয়ার ভার যাদের উপর, তাদের আচরণ ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন৷

আরও পড়ুন: কলিকেতা এসে, চিন নিন চিনে

গোপালপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষিকা কৃষ্ণা মাইতিরই ছেলে ওই স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র৷ ইউনিট টেস্টের খাতা হারিয়ে যায় ওই ছাত্রের৷ অভিযোগ, এই এই খাতা হারিয়ে যাওয়ার পিছনে রয়েছে শিক্ষিকা শাশ্বতী মাইতির দায়৷ বহু বলাবলিতেও সেই কাতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি কৃষ্ণা মাইতির৷

শনিবার ছিল পুজোর ছুটির আগে শেষ টিচার্স মিটিং৷ জানা যায়, বৈঠকের শুরুতেই শিক্ষিকা কৃষ্ণা মাইতি নিডের ছেলের হারিয়ে যাওয়া খাতার দাবি জানান৷ তাঁর নিশানায় ছিলেন সহকর্মী শাশ্বতী মাইতি৷ এরপরই দুই শিক্ষিকার মধ্যে খাতা হারানোর দায় নিয়ে শুরু হয় অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের পালা৷ পরে তা হাতাহাতির রূপ নেয়৷

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় নিরামিষ? হিন্দু সংগঠনের চোখ রাঙানিতে ক্ষেপে আগুন বাঙালিরা

এখানেই শেষ নয়, হাতাহাতি শেষ পর্যন্ত গড়ায় টিচার্স রুমের বাইরে পর্যন্ত৷ দুই শিক্ষিকাকে চুলোচুলি করতে দেখে ছাত্ররা তখন ভেবাচেকা! মারামারি থামানোর চেষ্টায় ব্যস্ত অন্যন্য শিক্ষকরা৷ কিন্তু বৃথা চেষ্টা৷ শক্তি প্রদর্শণে ব্যস্ত স্কুলের দুই শিক্ষিকা৷ আসল সমস্যা তখন নেহাতই ছুতো মাত্র৷ কিছুটা ধাসস্ত হয়ে খুদেদের গালেও মুচকি হাসি৷

সব দেখে লজ্জায় মুখ লুকানোর জোগার মহিষাদলের গোপালপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদের৷ শেষে বিচারের দাবিতে আইনের দারস্থ বিবদামান দুই শিক্ষিকা কৃষ্ণা ও শাশ্বতী মাইতি৷ মহিষাদল থানায় একে অপরের বিরুদ্ধে নালিশ করেন তারা৷ গোপালপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিবাজী বেরা বলেন, ‘‘দুই শিক্ষিকা ইচ্ছে করেই স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করছেন। ঘটনা আমরাও স্কুল পরিদর্শকের নজরে এনেছি। আমরাও এর বিহিত চাই।’’

তবে এতে ডরার পাত্র নন কেউ৷ মারামারি ছেড়ে মুখেই তখন চলছে বিষদগারের বন্যা৷ প্রশ্ন উঠছে দুই শিক্ষিকার আচরণে কী বার্তা পৌঁছাল ছাত্রদের কাছে?