স্টাফ রিপোর্টার, সোনারপুর: কার প্রশ্নে হবে পরীক্ষা? তা নিয়ে রীতিমতো হাতাহাতিতে জড়ালেন প্রধান শিক্ষক ও সহ শিক্ষক! দুই শিক্ষকের এহেন নজিরবিহীন তরজায় ভেস্তেই গেল চতুর্থ শ্রেণির অঙ্ক পরীক্ষা৷ লক্ষ্মীবারের সকালে এমনই তুঘলকি ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুর থানা এলাকার সুভাষিনী বালিকা শিক্ষায়তন৷ প্রাথমিক স্কুলের খুদেরা দেখল, প্রশ্নপত্র নিয়ে দুই শিক্ষকের তুলকালাম ধস্তাধস্তি! বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ৷ শিক্ষকদ্বয়ের এহেন তুঘলকি কাণ্ডকারখানায় মুখ টিপে হাসছেন পড়ুয়া থেকে এলাকার আমআদমি৷

সুভাষিনী বালিকা শিক্ষায়তনে এদিন ছিল চতুর্থ শ্রেণির অঙ্ক পরীক্ষা৷ স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, চতুর্থ শ্রেণির মোট পড়ুয়া সংখ্যা ১৮০জন৷ এদিন সকালে নির্দ্ধারিত সময়ের আগেই ছাত্রীদের নিয়ে স্কুলে হাজির হন অভিভাবকেরা৷ পড়ুয়ারা নির্দিষ্ট কক্ষে পরীক্ষা দিতেও বসে যান৷ এরপরই শুরু হয় গোলমাল৷ প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণকান্ত দাস একটি ক্লাসরুমে ছাত্রীদের নিজের তৈরি করা অঙ্কের প্রশ্নপত্র দেন৷ অন্যদিকে পাশের রুমে নিজের তৈরি প্রশ্নপত্র দেন সহশিক্ষক গৌতম চক্রবর্তী৷ সেই বিষয়টি নজরে আসতে প্রধান শিক্ষক গৌতমবাবুর প্রশ্নপত্র ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ৷ এরপরই দুই শিক্ষকের মধ্যে শুরু হয় চেঁচামেচি৷ পরস্পর পরস্পরের প্রশ্নপত্র নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া শুরু করেন৷

প্রধান শিক্ষক ও সহ শিক্ষকের এহেন ধস্তাধস্তি দেখে হকচকিয়ে যান স্কুলের অপর শিক্ষিকা সুলেখা দাস৷ হতভম্ব হয়ে যায় পড়ুয়ারাও৷ এদিকে দুটি ঘরে একই পরীক্ষার দু’রকম প্রশ্ন দেওয়ার খবর জানাজানি হতেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয় স্কুলের বাইরে থাকা অভিভাবকদের মধ্যে৷ ততক্ষণে প্রধান শিক্ষক ও সহ শিক্ষকের চিল চিৎকারে হুলুস্থুল অবস্থা তৈরি হয় শ্রেণি কক্ষে৷ এদিকে কেউই কাউকে ছাড়বার পাত্র নন৷ ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুলে আসতে হয় পরিচালন কমিটির সদস্যদের৷ বাতিল ঘোষণা করা হয় এদিনের অঙ্ক পরীক্ষা৷
প্রশ্নপত্র নিয়ে কেন এরকম নজিরবিহীন দ্বন্দ? প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণকান্ত দাসের অভিযোগ, ‘‘গৌতমবাবু নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমাকে অঙ্কের প্রশ্ন দেননি৷ তাই আমি বাধ্য হয়েছি নিজে অঙ্কের প্রশ্ন তৈরি করেছিলাম৷ এদিন পড়ুয়াদের সেই প্রশ্ন দেওয়ার সময় উনি গোলমাল শুরু করেন৷’’ পাল্টা হিসেবে সহশিক্ষক গৌতম চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘আগেভাগে প্রশ্নপত্র তুলে দিলে প্রধান শিক্ষক ফাঁস করে দিতেন, তাই আমি ওনার হাতে প্রশ্ন দিইনি৷ তা বলে উনি পাল্টা প্রশ্নপত্র বানাবেন, সেটা তো মেনে নেওয়া যায় না৷’’

গোটা ঘটনার জেরে কার্যত মুখ পুড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষর৷ আডা়লে আবডালে নয়, দুই শিক্ষকের ধস্তাধস্তির ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যেই হাসাহাসি করছেন এলাকার মানুষ৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুল পরিচালন কমিটির এক সদস্যর অকপট স্বীকারোক্তি, ‘‘এদিন যেভাবে পড়ুয়াদের সামনে দুই শিক্ষক ধস্তাধস্তিতে জড়ালেন, তাতে মানুষের হাসাহাসি করাটাই স্বাভাবিক৷ ভবিষ্যতে যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা দেখা হবে৷’’