স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: অবশেষে আশঙ্কাই সত্যি হল। দিনের পর দিন এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ যেভাবে জঙ্গলে আগুন লাগাচ্ছে, তার ফল ভোগ করতে হল নিরীহ দুই গ্রামবাসীকে। জঙ্গলমহলের জঙ্গলে অবাধে আগুন লাগানোর ফলে বন্যপ্রাণীরা বেরিয়ে আসছে৷ আর এরই ফলশ্রুতিতে বনশুয়োরের আক্রমণে মৃত্যু হল একজনের। আহত হয়েছেন আরও একজন৷ ঘটনাটি বাঁকুড়ার সারেঙ্গা এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালে বেলাটিকরির বাসিন্দা মিলন মাণ্ডি গ্রামের মাঠের দিকে কাজে যাচ্ছিলেন৷ তখন একটি বড় বনশুয়োরের মুখোমুখি পড়ে যান। তাকে আক্রমণ করে ওই বনশুয়োর। এরপর তার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে পাশাপাশি কয়েকজন ছুটে গিয়ে দেখেন বনশুয়োরের সঙ্গে রীতিমতো ধ্বস্তাধস্তি চলছে ওই যুবকের। তাকে ছাড়াতে এগিয়ে আসেন পাশের গ্রামের যুবক কালাচাঁদ মূর্মু৷ তাকেও আক্রমণ করে ওই বনশুয়োর। তিনিও গুরুতর জখম হন। শরীরের বেশ কয়েক জায়গায় আক্রমণ করে ওই বনশুয়োর।

তাদের কোনরকমে উদ্ধার করেন উপস্থিত গ্রামবাসীরা। দু’জনকেই সারেঙ্গা গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তাঁরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় মিলন মাণ্ডির৷ আহত কালাচাঁদ মূর্মূকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

আক্রান্ত কালাচাঁদ মুর্ম্মু বলেন, সকালে মাঠের দিকে চাষের কাজ দেখতে গিয়েছিলাম৷ সেই সময় মাঠের দিকে চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ছুটে গিয়ে দেখি মিলনকে বনশুয়োরে আক্রমণ করেছে৷ আমি ছাড়াতে গেলে আমাকেও কামড়ে দেয়।

তাঁদের দাবি, আরও দু’জন বনশুয়োরের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে কালাচাঁদ মুর্ম্মূর অভিযোগ, চারিদিকে জঙ্গলে যেভাবে একশ্রেণীর মানুষ আগুন লাগাচ্ছে, ফলে বনের পশুরা লোকালয়ে চলে আসছে। আর ভয়ে তারা মানুষকে আক্রমণ করছে। এই বনশুয়োরগুলি রানীবাঁধের বারোমাইল জঙ্গল, ও পাশাপাশি জঙ্গল এলাকা থেকে আগুনের ভয়ে এই এলাকায় চলে আসছে বলেও তাদের দাবি।

তবে একথা মানতে নারাজ বনদফতর৷ সারেঙ্গার পিড়রগাড়ী রেঞ্জ অফিসের সঙ্গে এই বিষয়ে জানতে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়৷ তারা জানান, আমরা খবর খবর নিয়ে দেখছি। এই এলাকায় বেশ কিছু বনশুয়োর রয়েছে৷ জঙ্গলে আগুন যাতে না লাগানো হয় সেই বিষয়ে আমরা বারে বারে মানুষকে সচেতন করছি। তবে এখনও কিছু মানুষ শিকারের নামে বন্যপ্রাণীদের আক্রমণ করে চলেছে৷ এগুলি বন্ধ হওয়া দরকার। তবে জঙ্গলে আগুন লাগানো বা বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনা যে এখনও ঘটছে সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই৷ মানুষ কবে সচেতন হবে সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।