হায়দরাবাদ: বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার করা হল দুই রোহিঙ্গা শরণার্থীকে। ধৃত দুই রোহিঙ্গা হল আবিবাস রহিম এবং মহম্মদ রহিম। শুক্রবার তাদের তেলেঙ্গানার রেচাকন্ডা পুলিশ কমিশনারের পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে।

তেলেঙ্গানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে যে রোহিঙ্গারা নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা নিয়ে কারবার শুরু করেছে। একই সঙ্গে তেলেঙ্গানা সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই ইয়ায়াবার নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে যুব সমাজের মধ্যে। বিভিন্ন সূত্র মারফত এই তথ্য পেয়েছিল তেলেঙ্গানা পুলিশ।

সেই সূত্রের উপরে ভিত্তি করেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আসরে নামে পুলিশ। সেই অভিযানেই শুক্রবার দুই মায়ানমারের রোহিংগাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। রেচাকন্ডার পুলিশ কমিশনার মহেশ এম ভগবত বলেছেন, “নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা বিক্রির সময়ে সুই মায়ানমারের নাগরিককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।” সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “বালাপুরের এক পুলিশ কর্মী বিষয়টি প্রথমে জানতে পারেন। সেই ভিত্তিতেই অভিযানে নামা হয়। ধৃতদের থেকে ১৪০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গিয়েছে।”

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে ইয়াবা সাধারণত মায়ানমার বা থাইল্যান্ড থেকে রফতানি হয়। মূলত বাংলাদেসে এই মাদকের চাহিদা বেশি। পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলিতেও ইয়াবা পাচার হয়ে থাকে। কিন্তু তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যে ইয়াবা মাদকের ব্যবহার ছিলই না। রোহিঙ্গাদের হাত ধরেই তা প্রবেশ করেছে। তবে এই ইয়াবার জাল ভারতে কতদূর গড়িয়েছে সেটাই এখন ভাবাচ্ছে পুলিশকে।

উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ট্যাবলেটগুলি প্রতিটি ভারতীয় মুদ্রায় ১৫০ টাকা করে বিক্রি করা হত বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মহেশ এম ভগবত। এই বিপুল পরিমাণ মাদক কোথায় বিক্রি করা হট এবং কোন উপায়ে তেলেঙ্গনায় এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মায়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা শুরু হওয়ার পরে প্রচুর সংখ্যক রোহিঙ্গা ভারত, বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে। ধৃতেরা সেই সময়েই ভারতে এসেছিল এবং তেলেঙ্গানায় বসবাস করতে শুরু করে। কয়েক বছরের মধ্যে ভারতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করে ফেলেছিল ধৃতেরা। গ্রেফতার হওয়া মহম্মদ রহিমের থেকে আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছে।

ফাইল ছবি