শেখর দুবে, কলকাতা: একজনের বাড়ি হাওড়ার বেলে প্রতাপপুর৷ অন্যজন হাওড়ারই চেঙ্গাইল ব্লকের চককাশীর ছেলে৷ একই জেলার হলেও দুটো গ্রামের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৩০ কিমি৷ এই কয়েক কিলোমিটারের দূরত্বে থাকা দু’টি গ্রামকে জুড়ে দিয়েছে একটি অনুভূতি, যার নাম শহিদ৷

হাওড়ার বেলে প্রতাপপুরের ছেলে গঙ্গাধর দলুই কয়েক বছর আগে কাশ্মীরের উরি-র সেনাছাউনিতে সন্ত্রাসবাদী হামলাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন৷ সম্প্রতি কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে সিআরপিএফের কনভয়ে হওয়া আত্মঘাতী জঙ্গী হামলাতে প্রাণ হারিয়েছেন বাবলা সাঁতরা৷ রবিবার শহিদ গঙ্গাধরের দলুইয়ের মা এসেছিলেন শহিদ বাবলা সাঁতরার বাড়িতে৷ সদ্য সন্তানহারা মায়ের যন্ত্রণা ভাগ করে নিতে৷ যে যন্ত্রণা তিনি অনুভব করেছেন আরও তিন বছর আগে থেকে৷

২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কাশ্মীরের উরি সেনা ছাউনিতে হঠাৎ আক্রমণ করেছিল পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা। লড়াইয়ে শহীদ হয়েছিলেন ১৯ জন ভারতীয় জওয়ান। যার মধ্যে একজন ছিলেন গঙ্গাধর দলুই। হাওড়ার বেলে প্রতাপুরের ছেলে গঙ্গাধর ২০১৪ সালে আর্মিতে যোগ দিয়েছিলেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে সন্ত্রাসী হামলায় সিআরপিএফ-এর ৪৪ জন জওয়ান বীরগতি পেয়েছেন। হাওড়ার বাউড়িয়ার চককাশীর বাবলা সাঁতরা তাঁদেরই একজন।

প্রায় তিনবছর আগে আর্মিতে কর্মরত বড় ছেলে শহিদ হয়েছে, উরি হামলায়। তারপরও ছোট ছেলেকে আর্মিতে পাঠাতে একটুও পিছপা নন হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের বেলে প্রতাপুরের শিখা দলুই। তবে সদ্য প্রয়াত সেনা জওয়ার বাবালার মার সঙ্গে দেখা করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি৷ চোখের জল বাঁধ মানেনি শহিদ বাবলার মারও৷ কয়েক বছরের ব্যবধানে বাংলার দুই মা হারিয়েছেন তাদের দুই ছেলেকে৷ চোখের জল ছাডা় আর কিই বা সম্বল হতে পারে তাদের? যদিও কিছুক্ষণ পর বাংলার দুই শহিদের দু’মা একে অপরকে শক্ত থাকার কথা বলেন৷ হয়ত একে অন্যের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থণাও করেন এই কষ্ট সহ্য করা শক্তি দেওয়ার জন্য৷

সোশ্যাল মিডিয়াতে থেকে সংবাদমাধ্যমের ডিবেট প্রচুর লোক পুলওয়ামার পাল্টা পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ দাবি করে আসছেন৷ যুদ্ধ হলে দেশের সেনা জওয়ানদের মৃত্যুর সংখ্যাটা ১৯ কিংবা ৪০-এ আটকে থাকবে না, খুব স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে৷ যুদ্ধে ভারত জিতে গেলেও বছরের পর বছর ধরে চোখের জল বয়ে বেড়াবেন গঙ্গাধর দলুই কিংবা বাবলা সাঁতরার মায়ের মতো অনেকে৷

এর আগে একটি সাক্ষাৎকারে উরির শহিদ গঙ্গাধর দলুইয়ের মা কলকতা২৪x৭-কে জানিয়েছিলেন যে তাঁর ছোট ছেলেও আর্মিতে যোগ দিক এমনটাই চান তিনি। শহিদের পরিবার বলেই হয়ত এত বড় হৃদয় রয়েছে শিখা দলুইয়ের। তবে ছেলে হারানোর কষ্ট ভুলতে পারেননি শিখা দেবী। কথা বলতে বলতে বার বার কেঁদে ফেলছিলেন। ধরা গলায় জানিয়েছিলেন, “কষ্ট হয়, খুবই কষ্ট হয় কিন্তু যখন দেখি আমার ছেলের মতো আরও ছেলেরা আর্মিতে রয়েছে তখন বুঝতে পারি বাবাই(গঙ্গাধর দলুইয়ের ডাক নাম) বেঁচে আছে।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ