লন্ডন ও ওয়াশিংটন: এক সময় ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর আদর্শে মগজধোলাই হয়ে জঙ্গি দলে নাম লিখিয়ে ছিল৷ কিন্তু আজ ঠেকায় পড়ে ওরা ফিরতে চাইলেও তাদের নিতে চাইছে না দেশ। ফলে সন্তান-সহ প্রায় দেশহীন নাগরিক হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে এরা দুজনে৷ এদের একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামিমা বেগম ছিলেন ব্রিটেনের বাসিন্দা৷ অন্যদিকে ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত হোডা মুথানা ছিলেন আমেরিকার বাসিন্দা ।

এরা দুজনেই ইসলামিক স্টেট-এর আদর্শে পাড়ি দিয়েছিলেন সিরিয়া। এমন কী সংসারও পেতেছিলেন। কিন্তু এখন বোধোদয় হয়েছে ফলে দু’জনেই তাদের পুরনো দেশে ফিরতে চান৷ শামিমার নাগরিকত্বই খারিজ করেছিল ব্রিটিশ সরকার। পাশাপাশি বাংলাদেশও জানিয়ে দিয়েছে, শামিমাকে ঢুকতে দেবে না তারা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইএস-এ যোগ দেওয়া নিজের নিজের নাগরিকদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে ফিরিয়ে নিতে বলেছিলেন। অন্যদের জ্ঞান দিলেও ঠিক উল্টো অবস্থান করেছে আমেরিকা৷ কারণ টুইটারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, হোডা মুথানা মার্কিন নাগরিক নন। বিদেশসচিব মাইক পম্পেয়োকে বলা হয়েছে, তাঁকে যেন আমেরিকায় ঢুকতে না দেওয়া হয়। মুথানার বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট নেই৷

এক মার্কিন কর্তা এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, মুথানার নাগরিকত্ব আদৌ খারিজ হয়নি। তাঁর বাবা ছিলেন আমেরিকায় ইয়েমেনের কূটনীতিক এবং মুথানা নিউ জার্সিতে জন্মেছিলেন৷ তারপরে অ্যালাবামায় বড় হয়েছেন৷ কিন্তু কোনও কূটনীতিকদের সন্তানেরা আমেরিকায় জন্মালেও অন্যদের মতো নাগরিকত্ব পায় না। বর্তমানে ২৪ বছরের এই নারী ১৮ মাসের এক সন্তানসহ সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদেরকে উত্তর সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে ১৯ এ বছরের শামিমা রয়েছেন সিরিয়ার একটি উদ্বাস্তু শিবিরে। ইংল্যান্ডের উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নিজের সন্তানকে বড় করতে লন্ডনে ফিরতে চান। যদিও চার বছর আগে তিনি লন্ডনে নিজের বাড়ি ছেড়ে সিরিয়ার জঙ্গিশিবিরে যোগ দিয়েছিলেন৷ সিরিয়ায় পৌঁছনর দশ দিনের মধ্যেই এক ইংরেজি ভাষী ডাচ জঙ্গির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় শামিমার। গত চার বছরে বার বার অন্তঃসত্ত্বা হলেও জঙ্গিশিবিরে কোনও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বাঁচাতে পারেননি একটি সন্তানকেও। সদ্যই সিরিয়ার ক্যাম্পে জন্ম দিয়েছেন নতুন একটি শিশুর আর তাকে বাঁচাতেই ইংল্যান্ডে ফেরার কথা জানিয়েছেন৷