স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: একই ফ্রেমে খড়গপুর পুরসভার পুর প্রধান তথা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি প্রদীপ সরকার ও খড়গপুর শহরের বিধায়ক তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ বর্তমানে দু’জনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক ভাইরাল৷ আর সেই ছবিতে অপ্রীতিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এর জেরে শহরে অশান্তির আশঙ্কা করেন পুরপ্রধান প্রদীপবাবু৷ ফলে দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন তিনি।
গত রবিবার বিজেপি নেতা প্রেমচাঁদ ঝাঁরের মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের ভোজে পাশাপাশি বসেছিলেন দিলীপবাবু ও প্রদীপবাবু। সেই ছবি সরাসরি কেউ তুলতে না পারলেও গোপনে তোলা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। কিন্তু ছবিতে অনেকে অপ্রীতিকর মন্তব্য করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, ছবিতে অপ্রীতিকর মন্তব্য করেন দলেরই দুই কর্মী রাজা সরকার ও মিঠু প্রধান। তাই তাঁদের দু’জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রদীপবাবু।

এই প্রসঙ্গে পুরপ্রধান প্রদীপবাবুর অভিযোগ, ‘‘ফেসবুকে রাজা সরকার ও মিঠু প্রধান আমার নামে কুৎসা করেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শহরে অশান্তি ছড়াতে পারে। এমনকি আমিও বিপদে পড়তে পারি। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ওই পোস্টে আমার জন্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে৷’’ এদিকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তৃণমূলের শহর সভাপতি রবিশঙ্কর পাণ্ডে জানিয়ে দেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের নেতা-কর্মী ও দল বিরোধী কোনও মন্তব্য করা যাবে না। তারপরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বারবার দলের কর্মীরা অপ্রীতিকর মন্তব্য করায় অস্বস্তিতে শাসকদল। তৃণমূলের শহর সভাপতি রবিশঙ্কর পাণ্ডে বলেন, ‘‘কেউ ব্যক্তিগত কোনও মন্তব্য করতেই পারেন। কিন্তু দল বা দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও দলীয় কর্মীর ফেসবুকে মন্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না। বিষয়টি দলের উচ্চ মহলে জানানো হয়েছে৷’’

এই নিয়ে তৃণমূল কর্মী রাজা সরকারের অভিযোগ, ‘‘আমার আগে ফেসবুকে বিজেপির কয়েকজন ওই ছবি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। আমি তাই বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে খোঁচা দিতে এই মন্তব্য করেছি। সেটা দলের শহর সভাপতিও শেয়ার করেছেন। তাতে যদি অন্য কারও কিছু মনে হয় তাহলে কিছু করার নেই।’’ যদিও প্রদীপ সরকারের দাবি, ‘‘তাঁকে ঘিরেই রাজা ফেসবুকে কুৎসিত মন্তব্য করেছে।’’ অন্যদিকে, আর এক অভিযুক্ত মিঠু প্রধানের দাবি, ‘‘আমি পুরপ্রধানের রাজনৈতিক জন্মের ঠিক নেই বলতে চেয়েছি।’’

রাজা সরকার ও মিঠু প্রধান শহরের তৃণমূল নেতা দেবাশিস চৌধুরীর অনুগামী হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। এই নিয়ে দেবাশিসবাবু বলছেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে দলীয় স্তরে আলোচনা করব।’’ পাশাপাশি তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, “আমি শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে খড়গপুরে বৈঠকে বসব।” তবে সর্বশেষ খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, ‘‘আমরা এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ কতটা যথাযোগ্য তা-ও দেখা হচ্ছে৷’’অবশ্য খতিয়ে দেখার আগেই দিলীপ-প্রদীপ পোস্ট নিয়ে রীতিমত হইচই পড়ে গিয়েছে৷