নয়াদিল্লি : পোখরানে পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ ঘটল। কিন্তু এমন ঘটনার খবর জানতেন না খোদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী (defence minister)। সেই সময়ের বিভিন্ন খবরে এমনই প্রকাশিত হয়েছিল। বলা হচ্ছে জানতেন দুই সেনার হেলিকপ্টার চালক(IAF)।

জানা গিয়েছে টেস্ট সাইটের জন্য খোঁজ করা হচ্ছিল। তখন দুই হেলিকপ্টার চালককে বলা হয়েছিল একটি বিশেষ পরীক্ষার জন্য তারা একটি জায়গা খুঁজছে। সেই জায়গা খোঁজার জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখনও তাঁরা জানতেন না ঠিক কী হতে চলেছে। লেফটেন্যান্ট কেডিএস সম্বল ও লেফটেন্যান্ট মাইক চাটার তখন পোখরানের(Pokhran) ১০৭ হেলিকপ্টার রেঞ্জে পোস্টিং ছিলেন। তাঁদেরকে এই মিশনের বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু পুরো বিষয়টি তারা জানতেন না তারা ১৭ মেতেও অর্থাৎ বিস্ফোরণের আগের দিনও। ওইদিন তাদের হেলিকপ্টার এমআই ফোর নিয়ে হাজির হন পোখরানে। সেখান থেকে সিভিল ড্রেসে থাকা কিছু লোকজনকে সঙ্গে নেন। কাজ সেরে তারা রাতে ফিরে আসেন।

পরের দিন অর্থাৎ ১৮ মে ভোরবেলা তাঁদের হেলিকপ্টারে চড়ে পোখরানে উপস্থিত হন। সঙ্গে ছিলেন দুই বিজ্ঞানী হোমি সেতনা ও রাজা রামান্না। তাঁরা তাঁদেরকে বিষয়টি বলেন। তাঁদেরকে এও বলে দেওয়া হয় তারা যেন বলা না পর্যন্ত যোধপুর ছেড়ে কোথাও না যান। এরপর সেই বিস্ফোরণ হয় এবং এরপর যা হয়েছে তা ইতিহাস।

ইন্দিরা গান্ধীর(indira gandhi) একটি প্লুটোনিয়াম চুল্লি নির্মাণ করিয়েছিলেন ১৯৭০ সাল নাগাদ। তাঁর অনুমোদিত বিজ্ঞানীর দল এই কাজ করেছিল অত্যন্ত গোপনেই। ওই বছরই তৈরি হয় ভাবা রিসার্চ সেন্টার। পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের জন্য এটি তৈরি হয়। এর প্রধান ছিলেন পদার্থবিদ রাজা রামান্নাকে। প্রকল্পের গোপনে রাখা হয়েছিল। ছিলেন সেনাবাহিনীর ৩ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মাত্র ৭৫ জন বিজ্ঞানী। রাখা হয়েছিল আরও কিছু সেনা কর্মকর্তাকে।

এটাই ছিল পোখরানের বিস্ফোরণের ভিত্তি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাগজীবন রামও এই বিষয়ে কিচ্ছুটি জানতে পারেননি।
পোখরান-১ নামক এই পারমাণবিক বোমা ওজন ছিল ১৪০০ কেজি। বোমার বিস্ফোরণ প্রক্রিয়া ছিল ফিশন।

১৯৭৪ সালের ১৮ মে। বুদ্ধ জয়ন্তী। সকাল ৮.০৫। বিশ্বকে চমকে দিয়ে পোখরানে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা করে ভারত। বুদ্ধ জয়ন্তী ছিল সেদিন তাই নাম ‘স্মাইলিং বুদ্ধ’। এর মোট উৎপন্ন শক্তি ছিল ১২ কিলোটন। এই পরীক্ষা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ ছাড়া অন্য কোনও দেশের ঘোষিত প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা৷

এরপরেই ভারত হয়ে ওঠে বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির অন্যতম৷ ড. রাজা রামান্নার পাশাপাশি অন্যান্য প্রধান বিজ্ঞানীরা ছিলেন ড. পি কে আইয়েঙ্গার, ড. রাজাগোপাল চিদাম্বরম, ড. নাগাপত্তিনাম শম্বশিব বেঙ্কটেশন, ড. আব্দুল কালাম ও ড. ওয়ামান দত্তাত্রেয় পটবর্ধন।

তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ড. হোমি এন সেতনা। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ার পরেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পারমাণবিক শক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভাব করেই এই প্রকল্পে অনুমতি দেন৷ ১৯৭২ সালে এর কাজ শুরু হয়৷ বাকিটা ইতিহাস৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.