তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: খেটে খাওয়া নিম্নবিত্ত পরিবারের ওরা৷ কিন্তু মেধায় কোনও অংশে কম নয়৷ অনিমা মুর্মু ও সনকা হেমব্রম৷ অলচিকি হরফে লিখে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে যুগ্মভাবে রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছে এই দুজন৷ দুজনেই বাঁকুড়ার রাইপুরে চাতরি পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্ম্মু আবাসিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী অনিমা মুর্ম্মু ও সনকা হেমব্রম। দু’জনের প্রাপ্ত নম্বর ৪৪৫।

অনিমা মুর্ম্মু পঞ্চম শ্রেণী থেকেই এই স্কুলে পড়াশুনা করছে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এবারই প্রথম অলচিকি হরফে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেয়। প্রথমবারেই বাজিমাৎ জঙ্গল মহলের অনিমা মুর্ম্মুর। তার সাফল্যে খুশির হাওয়া স্কুলের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো জঙ্গল মহল জুড়ে।

কৃতী এই ছাত্রীর প্রিয় বিষয় সাঁওতালী। ভবিষ্যতে সে এই বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার পর গবেষণা করতে চায়। দিনে প্রায় আট ঘন্টা পড়াশুনা করেছে সে। পড়াশুনার পাশাপাশি ভলিবল আর আদিবাসী নৃত্যেও সমান দক্ষ এই মেধাবিনী।

এই স্কুলের সনকা হেমব্রমও অলচিকি হরফে পরীক্ষা দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে যুগ্মভাবে প্রথম হয়েছে। সাঁওতালী বিষয়ে অনিমার প্রাপ্ত নম্বর ৯০ ও সনকার ৮৮। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রথম এই খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে এই কৃতী ছাত্রী। স্থানীয় বনশোল গ্রামের মেয়ে সনকারা দুই বোন। ছোট বোন এবার নবম শ্রেণীতে পড়ছে।

বাবা অনিল হেমব্রম দিন মজুরের কাজ করে কোনরকমে সংসার খরচ সামলে দুই মেয়ের পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই কৃতি ছাত্রীর প্রিয় বিষয় ভূগোল। দিনে প্রায় আট ঘন্টা পড়াশুনা করেছে সে। পড়াশুনার বাইরে সেভাবে আর কিছু করার সুযোগ হয়ে না উঠলেও গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে, এমনটাই জানিয়েছে সে। দারিদ্রতাকে জয় করে ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই এখন এগিয়ে যেতে চায় অভাবী ঘরের এই মেধাবী ছাত্রী৷

দুই সহপাঠীনির এই সাফল্যে খুশি স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরাও। আনন্দের খবরে স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সকলকে মিষ্টি মুখ করানো হয়। পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্ম্মু আবাসিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিগত কয়েক বছর ধরে আমাদের স্কুলে ভালো রেজাল্ট হচ্ছে। অনিমা পঞ্চম শ্রেণী থেকে এখানে পড়াশুনা করছে। অনিমা ও সনকা যথেষ্ট পরিশ্রমী ও মেধাবী এই দুই ছাত্রীর সাফল্যে তিনি খুশি বলে জানান।