স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ:  নিষিদ্ধ ফেনসিডিল পাচার করতে গিয়ে বিএসএফের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ল দুই পাচারকারি। শনিবার সকালে ইংরেজবাজার থানার অন্তর্গত ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে চৌকি বেকি এলাকা থেকে অন্য কোথাও নিষিদ্ধ ওই ফেনসিডিলগুলি পাচার করতে গিয়ে ২৪নং সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কাছে হাতেনাতে ধরা পরে তাঁরা।

এদিকে পাচারকারীদের মারধোরের ঘটনায় ইংরেজবাজার থানার কাছে ওই ২৪নং সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। যদিও এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে মালদহ জেলার স্থানীয় দুই যুবক ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের চৌকি বেকি এলাকা দিয়ে ওই নিষিদ্ধ ফেনসিডিলগুলি হস্তান্তর করে অন্য কোথাও পাচারের চেষ্টা চালাছিল। সেই সময়ে সীমান্তে প্রহরারত বিএসএফ জওয়ানদের কাছে ধরা পড়ে সামাউল শেখ এবং হেমন্ত ঘোষ নামের দুই যুবক। তাঁদের কাছ থেকে বিএসএফ উদ্ধার করে ওই ফেনসিডিলগুলি।

জানা গিয়েছে, তারপরেই ওই পাচারকারীদের উপর মারধোর করে বিএসএফ জওয়ানরা। ঘটনাস্থলেই মারা যায় সামাউল এবং আহত অপর পাচারকারীকে চিকিৎসার জন্য ভরতি করা হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে।

এদিকে মারের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিএসএফ জানিয়েছে, ফেনসিডিল পাচারের সময় বাধা দেওয়ার ফলে পাচারকারীরা পালাতে গিয়ে পড়ে যায়। তাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপরজন আহত হয়েছে। সেই সময়ে সীমান্তে কর্তব্যরত ওই বিএসএফ জওয়ানরা আরও জানিয়েছেন, পাচারকারীদের গায়ে কোনওরকম হাত তোলা হয়নি। বেদম প্রহারের ফলে মৃত্যুর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা।

অন্যদিকে পাচারকারীদের পরিবারের সদস্য মফিউল রহমান জানিয়েছেন টাকার জন্য ওই যুবকেরা কিছু অন্যায় কাজ করেছিল। কিন্তু বিএসএফ সেই কাজে বাধা দেয় এবং মারধোর করে। শুধু তাই নয় এর ফলে একজন মারা যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।  সূত্রের খবর, এই বিষয়ে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখে এবং এই পাচার চক্রের সঙ্গে আর কে কে জড়িত আছে তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।