স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: সন্দেশখালির পর এবার খোদ কলকাতায় আক্রান্ত পুলিশ৷ ঘটনাটি ঘটেছে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে৷ এই ঘটনায় পুলিশ দু’জনকে আটক করেছে৷ পাল্টা অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধেও৷

রোগীর পরিবারের হাতে ডাক্তার আক্রান্তের খবর মাঝে মাঝেই শিরোনামে উঠে আসে৷ কিন্তু এবার রোগীর পরিবারের হাতে আক্রান্ত হল পুলিশ৷ রবিবার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ছিল ৪-৫ জন পুলিশ কর্মী ও হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী৷ প্রথমে রোগীর পরিবারের সঙ্গে তাদের বচসা শুরু হয়৷ এরপরই রোগীর পরিবার নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করতে থাকে, তাদের বাঁচাতে পুলিশ এগিয়ে আসলে, তাদেরকেও ব্যাপক মারধর করা হয়৷ ছিঁড়ে ফেলা হয় কর্তব্যরত পুলিশের পোষাক৷

সূত্রের খবর, নিউ আলিপুরের তিনজন বাসিন্দা জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন৷ রবিবার তাদেরকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়৷ তারপর পরিবারের সদস্যরা তাদের নিতে আসেন৷ সেই সময় হাসপাতালের নিয়ম ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে তারা৷ নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের বাঁধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়৷ বিষয়টি তখনকার মত মিটে যায়৷ অভিযোগ,এরপরই রোগীর পরিবার নিজেদের এলাকায় ফিরে গিয়ে ২০-২৫ জন বাসিন্দাকে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসে৷ এবং তারা পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের আক্রমণ করে৷

পাল্টা অভিযোগ করেন রোগীর পরিবার৷ তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে ঢোকতে গেলে নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ তাদের মারধর করে৷ যদিও এই অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে৷

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ অভিযোগ, বিশৃঙ্খলাকারীদের পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে৷ এবং হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়৷ পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের মারধরের অভিযোগে দু’জনকে আটক করেছে যাদবপুর থানার পুলিশ৷

এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে দুষ্কৃতীদের বোমা-গুলিতে মৃত্যু হয় একজন ভিলেজ পুলিশের৷ গত শুক্রবার সন্দেশখালির খুলনা গ্রামের আতাপুর ফেরিঘাটের রাতে মদ-জুয়ার ঠেক ভাঙতে গিয়েছিল পুলিশ৷ তখন দুষ্কৃতীদের বোমা-গুলিতে জখম হন সাব ইনস্পেক্টর অরিন্দম হালদার, ভিলেজ পুলিশ বিশ্বজিৎ মাইতি ও সিভিক ভলেন্টিয়ার বাবুসেনা সিংহ। এঁদের মধ্যে বিশ্বজিতের অবস্থা ছিল সব থেকে গুরুতর। শনিবার বিকেলে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়৷