কাঠমাণ্ডু: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত নেপালে কৈলালি এবং কাঞ্চনপুর, এই দুটি স্থান৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ ঝড়ে দু’জন প্রাণ হারায় এবং প্রায় শ’খানেক মানুষ আহত হয়৷ কৈলালিতে ঝড়ের কারণে ৭৭ জন এবং কাঞ্চনপুরে ২৩ জন আহত হয়৷ সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে কৈলালির চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার যজ্ঞরাজ বোহারা জানান, দুজন নিহত হয়েছে এবং ৭৭ জন বৃহস্পতিবার আহত হয়েছেন এই জোরালো ঝড়ে৷

নিহতদের মধ্যে একজন ৪৭ বছর বয়সী লাহানু চৌধুরি এবং অন্যজন বীরবাহাদুর চৌধুরি বলে জানা গিয়েছে৷ সিডিও বোহারা আরও বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কতটা তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে৷ উদ্ধারকার্যও শেষ হয়েছে৷ আহত ৭৭ জনের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ তাদের হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে৷

প্রতীকী ছবি

 

এই তুমুল ঝড়ে বহু বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে৷ ভেঙে পড়ে গাছও৷ সেই সঙ্গে জোরালো বৃষ্টি হয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়৷ এই বিপর্যয়ের কারণে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে গিয়ে যান চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়৷ শুক্রবার সমস্ত স্কুলগুলিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়৷ অনেক স্কুল এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে৷

অন্যদিকে কাঞ্চনপুরের ডেপুটি চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার গোকর্ণ প্রসাদ উপাধ্যায় এএনআই-কে জানান, ২৩ জন আহত হয়েছে এদিন, যাদের মধ্যে ৮ জন হাসপাতালে ভরতি৷ ১১ বছরের এক ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক৷
একদিকে যেখানে ঝড়ের এই তাণ্ডবে প্রাণ গিয়েছে নেপালে ২ জনের অন্যদিকে আবার ২ জুন ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কার্যত আতঙ্কে সালভাদোর। কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৬। হঠাত তীব্র এই কম্পনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। রাস্তায় নেমে আসে বহু মানুষ। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে জানায়, এল সালভাদোরের মূল শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে উপকূলবর্তী এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পরেই গোটা দেশজুড়ে সুনামির আতঙ্ক তৈরি হয়। যদিও স্থানীয় আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, সুনামির কোনও সতর্কতা নেই।

ফাইল ছবি

অন্যদিকে, ইউরোপের আলবেনিয়ায় দুই ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ছয়বার ভূমিকম্প হয়। প্রবল ভূমিকম্পে চারজন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্স জানাচ্ছে, আলবেনিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাংশে হওয়া একাধিক ভূমিকম্পের মধ্যে প্রথমটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তি কোর্সে শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ১৪ কিলোমিটার গভীরে। এর ৭ মিনিটি পর গ্রিস ও মেসিডোনিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূপৃষ্ঠের ১৮ কিলোমিটার গভীরে আরেকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।

এর পর থেকে কোর্স ও এর আশপাশে উত্তর গ্রিসের সীমান্ত এলাকাজুড়ে কম মাত্রার আরও কয়েকটি পরপর ভূমিকম্প হয়। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে, পূর্ব আলবেনিয়ার প্রধান শহর কোর্সেতে দেওয়াল, ছাদ ও প্লাস্টার ধসে চারজন আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফিয়ো ও নিকটবর্তী গ্রাম ডভোরানের প্রায় ৭০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।