লখনউ: অভাব বড় জ্বালা। উত্তরপ্রদেশ থেকে উঠে আসছে এবার এমনই এক অভাবের চিত্র। যোগীরাজ্যের জৌনপুরে একটি শ্মশানে মৃতদেহ দাহ করার কাজ করছেন দুই মহিলা। জানা গিয়েছে, প্রথমে অভাবের জন্য বাধ্য হয়ে এই কাজ করলেও এখন ভয়ডরহীন ভাবে এই কাজ করেন তাঁরা।

প্রচলিত রেওয়াজে হিন্দু ধর্মের মহিলাদের শমশানে যেতে অনেক বাধা নিষেধ রয়েছে। কিন্তু এই দুই বিধবা মহিলা মৃতদেহের অন্তিম সংস্কার করেই সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন।

আদি গঙ্গা গোমতীর তীরে জৌনপুরে রয়েছে এই শশ্মান। প্রতিদিন প্রায় আট থেকে দশটি মৃতদেহ পোড়ানো হয় এখানে। আর এই দায়িত্ব রয়েছে ওই দুই মহিলার ওপর।

জানা গিয়েছে, স্বামীর মৃত্যুর পরে এই দুই মহিলার কাছে বেঁচে থাকাই প্রথম ও একমাত্র প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছিল। তাঁরা যে চাষ করে নিজেদের সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেবেন এমন জমিও তাঁদের নেই। অগ্যতা তাঁরা তাঁদের স্বামীর পেশাকেই কাজ হিসেবে বেছে নেন।

দুই মহিলার মধ্যে একজনের নাম মাহরিতা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর শ্বশুর প্রথমে এই কাজ করত। তারপর তাঁর স্বামী এই কাজ করা শুরু করে। শেষে স্বামীর মৃত্যু হলে তিনি এই কাজ নেন। তিনি জানিয়েছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর কোনও রকম উপায় ছিল না। আত্ম-সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে, তিনি এই পেশাটি বেছে নিয়েছিলেন, যাতে কারও সামনে হাত না পাততে হয়।

অন্য মহিলা জানিয়েছেন, তার আট বছরের একটি ছেলে এবং দুটি মেয়ে রয়েছে। সে বাধ্য হয়ে এই পেশা বেছে নিয়েছিল তবে এখন তার কোনও আফসোস নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। এই কাজ করে তিনি তাঁর সন্তান্দের মুখে খাবার তুলে দেন।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।