স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি শিবিরে নাম লেখালেন দুই জনপ্রতিনিধি। তাও আবার তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের জেলাতে।

আলোচিত দুই ব্যক্তি হলেন সুলতা কোড়া এবং জপন মুখোপাধ্যায়। তাঁরা দু’জনেই গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতে পঞ্চায়েত সদস্য হয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে বীরভূম জেলার রামপুর পঞ্চায়েতের এই দুই সদস্য বিজেপির টিকিটেই ভোটে জিতেছিলেন।

দিন কয়েক আগে তাঁরা বীরভূমের বোলপুরে জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন। মূলত এই দুই সদস্যের উপরে নির্ভর করেই রামপুর পঞ্চায়েত দখল করে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। গঠিত হয় ঘাস ফুল পরিচালিত পঞ্চায়েত বোর্ড।

কিন্তু সপ্তাহ না ঘুরতেই বদলে গেল ছবিটা। জোড়া ফুল ছেড়ে ফের পদ্ম ফুলের পতাকাতলে ফিরে এলেন দুই পঞ্চায়েত সদস্য। শুক্রবার তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেয় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এলাকার বিজেপির কর্মী-সমর্থক এবং এলাকার বাসিন্দাদের চাপেই ফের পদ্ম শিবিরে ফিরে এসেছেন সুলতা এবং জপন। যদিও তাঁদের দাবি, “ভুল করে তৃণমূলে চলে গিয়েছিলাম।” ভুল ভাঙার কারণেই ফের পুরনো দলে ফেরত এসেছেন বলে দাবি করেছেন প্রত্যাবর্তনকারীরা।

শনিবারেই বীরভূমে বড় সভা করার কথা রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের। তার আগের দিনেই দুই পঞ্চায়েত সদস্যের দল বদলের ঘটনায় কিছুটা হলেও চাপে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। একই সঙ্গে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল রামপুর পঞ্চায়েতের বোর্ডের ভবিষ্যৎ।

আরও পড়ুন- দিদিকে ছ’লাখ দেবেন কেষ্টা

যদিও এই দল বদলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। মহম্মদ বাজার ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি কালী প্রসাদ বন্দোপাধ্যায় বলেন, “ওই এলাকাটি তৃণমূল কংগ্রেসের বরাবরের শক্ত ঘাঁটি। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধের জেরে গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের বেশ কিছু মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করে। আমাদের এই দুই প্রাক্তন তৃণমূল কর্মী বিজেপির প্রতীকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে জয়ী হন। পরে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন।”

তাহলে তাঁরা আবার বিজেপিতে ফিরে গেলেন কেন? আবারও কী কোনও বিরোধ দেখা দিয়েছে তৃণমূল শিবিরে? এই বিষয়ে কালী প্রসাদ বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, “স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ঝাড়খণ্ড থেকে দুষ্কৃতী নিয়ে এসে ওদের উপরে চাপ সৃষ্টি করেছে। সেই কারণেই ওরা পদ্মের পতাকা তুলে নিয়েছে।” তাহলে এখন রামপুর পঞ্চায়েত বোর্ডের কী হবে? জটিলতার কথা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, “সুলতা কোড়া এবং জপন মুখোপাধ্যায় তৃণমূলে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”