স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: দুই লক্ষাধিক টাকা প্রতারণার মামলায় দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডায়মণ্ডহারবারের দুই বিজেপি নেতাকে জামিন দিল বাঁকুড়া সিজিএম আদালত।

ভুয়ো সমবায় সমিতির নাম করে কম দামে জিনিসপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অভিযোগ ছিল তাদের৷ বৃহস্পতিবার ডায়মণ্ডহারবার লোকসভা এলাকার বাসিন্দা ও বিজেপি নেতা জয়দেব দত্ত ও উমেশ দাসকে বিচারক অরিজিৎ মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগত এক হাজার টাকা বণ্ডে জামিন দেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ মে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ ডায়মণ্ডহারবারের এই দুই বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। পরে বাঁকুড়া জেলা আদালতের নির্দেশে এতো দিন তারা বিচারাধীন বন্দি হিসেবে বাঁকুড়া জেলা সংশোধনাগারে ছিল। ডায়মণ্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রে ভোটের ঠিক আগে তাদের দুই নেতাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করিয়ে শাসক দল রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি।

আসামী পক্ষের আইনজীবী লোকেশ মুখোপাধ্যায় বলেন, এদিন অভিযোগকারী আদালতে ভুল স্বীকার করে৷ আর মামলাটি লড়তে চান না বলে আবেদন জানান। তারপরেই এই দু’জনের জামিন মেলে। তার মক্কেলরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেও আইনজীবী লোকেশ মুখোপাধ্যায় দাবি করেন।

এদিন জামিন পেয়ে জয়দেব দত্ত ও উমেশ দাসরা নিজেদের নির্দোষ দাবী করেন৷ উমেশ দাস বলেন, ডায়মণ্ডহারবারে সেই সময় ভোটের আগে বিজেপিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করতেই শাসক দল চক্রান্ত করে তাদের ফাঁসিয়েছিল। এর আগে তারা কখনও বাঁকুড়ায় যেমন আসেননি, তেমনি অভিযোগকারীকে তারা কেউ চেনেন না বলেও জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারী ব্যক্তি আদালতে জানিয়েছেন তাকে জোরপূর্বক এই দুই বিজেপি নেতার নামে মিথ্যা মামলা করানো হয়েছিল।

জামিনে মুক্ত জয়দেব দত্তের স্ত্রী অপর্ণা দত্ত বলেন, ছাড়া পেয়ে ভালো লাগছে। আমরা এই ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। তবে এই প্রায় এক মাসে বাড়ি আর বাঁকুড়া করে শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণরূপে ক্লান্ত। সম্পূর্ণভাবে সাজানো গল্পের মাধ্যমে রাজনৈতিক চক্রান্ত করে তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই দুই বিজেপি নেতা এদিন ছাড়া পাওয়ার পর স্থানীয় বিজেপি নেতা কর্মীরা তাদের মালা পরিয়ে স্বাগত জানান।