স্টাফ রিপোর্টার,  বাঁকুড়া: বাংলায় গেরুয়া শিবিরে ভাঙন অব্যাহত। স্বাধীনতা দিবসেও সেই ছবির ব্যতিক্রম হল না। শনিবার খাতড়ার সুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইনকোচা ২০ জন বিজেপি নেতা কর্মী তৃণমূলে যোগ দিলেন।

দলের তরফে স্বাধীনতা দিবস পালনের মঞ্চ থেকে পদ্ম শিবির ছেড়ে আসা নেতা কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন জেলা তৃণমূল নেতা ও খাতড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত মিত্র।

উপস্থিত ছিলেন খাতড়া টাউন যুব তৃণমূল সভাপতি সুব্রত দে সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। বিজেপি ছেড়ে আসা মহাদেব গিরি বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে যেভাবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের পাশে আছেন তা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তাঁর উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হতেই তৃণমূলে যোগদান বলে তিনি জানান।

তৃণমূল নেতা ও খাতড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত মিত্র বলেন, সুপুর এলাকায় বিজেপি শেষ হয়ে গেল। বিজেপি কর্মীদের পাশাপাশি দুই সিপিএম কর্মীও তাদের দলে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জয়ন্তবাবু। তিনি বলেন, সিপিএম আদর্শচ্যুত। অর্থের বানিময়ে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছে বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে জয়ন্ত মিত্র আরও বলেন, আগামিদিনে আরও নেতা কর্মীরা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেবে।

শুধু বাঁকুড়াতেই নয়, গোটা রাজ্যজুড়েই বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরাচ্ছে তৃণমূল। এমনকি, গত কয়েক দফায় খোদ কলকাতাতেও বিরোধী শিবিরে একের পর এক ভাঙন ধরাচ্ছে শাসকদল তৃণমূল। যেমন স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন কলকাতায় কংগ্রেস ও বিজেপি থেকে কয়েকশো কর্মী যোগ দিলেন তৃণমূলে৷

শুক্রবার, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন কংগ্রেসের উত্তর কলকাতা জেলা যুব সভাপতি হারাধন সাহা সহ আরও ১০০ জন কংগ্রেস কর্মী। তাঁদের হাতে দলের ঝাণ্ডা তুলে দিলেন কলকাতা পুরসভার বিদায়ী ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ এবং উত্তর কলকাতার যুব সভাপতি তথা বরো চেয়ারম্যান, অনিন্দ্য কিশোর রাউত।

এদিনই ২৫ জন বিজেপি কর্মীর হাতে তৃণমূলের ঝাণ্ডা তুলে দিলেন শ্যামপুকুরের বিধায়ক শশী পাঁজা। বৃহস্পতিবারও কলকাতায় কংগ্রেস নেতা ইমরান আহমেদ, আজাহার খানের নেতৃত্বে ১৫০ কংগ্রেস সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁদের হাতে ঘাসফুলের ঝাণ্ডা তুলে দেন অনিন্দ্য কিশোর রাউত।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই কংগ্রেস নেতা ইমরান আহমেদ, আজাহার খানের নেতৃত্বে ১৫০ কংগ্রেস সদস্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের হাতে ঘাসফুলের ঝাণ্ডা তুলে দেন উত্তর কলকাতা যুব সভাপতি, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর এবং বরো চেয়ারম্যান অনিন্দ্য কিশোর রাউত।

গত ২১ জুলাই তৃণমূলের ভার্চুয়াল শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘ভুল করে যদি কেউ বিজেপিতে গিয়ে থাকেন, তাহলে তৃণমূলে ফিরে আসুন। কেউ যদি কংগ্রেস বা সিপিএমে গিয়ে থাকেন, তাঁরাও ফিরে আসুন।

মানুষের জন্যে যদি কাজ করতে চান, তাহলে তৃণমূলেই একমাত্র সেই সুযোগ পাবেন।’ তৃণমূল নেত্রীর সেই ডাকে বাস্তবেই ব্যাপক সাড়া মিলছে। দেখা যাচ্ছে, একুশে জুলাইয়ের পর থেকেই তৃণমূলে যোগদানের প্রবণতা উত্তোরত্তর বাড়ছে।

যে জঙ্গলমহল গত লোকসভা ভোটে তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সেই জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরেও বিগত কয়েক মাসে গেরুয়া শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগদানের প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও