হংকং সিটি: চিনের অধীনস্ত এক টুকরো জমি, ঘণবসতি পূর্ণ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যাতায়াতের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ফলে এই শহরে কোনও মহামারি হোক বা রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক উত্তেজনা, সেটা দুনিয়া জুড়ে প্রভাব ফেলে।

সার্সের মতো মারাত্মক ছোঁয়াছে রোগে হংকংয়ে মৃত্যু মিছিল হয়েছিল। ৩০০ জনের মতো মারা যান। অথচ করোনাভাইরাস হামলায় নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে হংকং। এখানে তেমন ছড়াতে পারেনি রোগটি।

এর কারণ কী? বিবিসি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই তথ্য। রিপোর্টে বলা হয়েছে, হংকং স্বশাসিত প্রশাসন যেভাবে চিনের সঙ্গে প্রথম থেকে সবরকম যোগাযোগ প্রবল নিয়ন্ত্রিত করেছে, তারই সুফল মিলছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, স্বশাসিত হংকং ও চিনের মধ্যে ১৪টি চেকপোস্ট আছে। তার ১০টি প্রথম দিকেই বন্ধ করা হয়। বাকি ৪টি দিয়েও আসা যাওয়া প্রবল নিয়ন্ত্রিত। যারা চিনের দিক থেকে আসছেন তাদের বাধ্যতামূলক ১৪দিন কড়া পরীক্ষা করেই ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে প্রবেশের।

চিনা স্বশাসিত এলাকা হংকং বিভিন্ন সময়ে চিনা আধিপত্য বিরধিতায় প্রবল উত্তপ্ত হয়েছে। সম্প্রতি চিনা আইনের প্রয়োগ ঘিরে বিরোধিতায় হংকং স্তব্ধ হয়। বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিরাট ধাক্কা লাগে। তখন থেকেই হংকং প্রায় চিন থেকে বিচ্ছিন্ন। এরপরেই চিনে শুরু হয় করোনাভাইরাস সংক্রমণ।

বিবিসি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে সার্সের মতো ভয়ঙ্কর জীবাণু সংক্রমণের শিকার হয় চিন। তখন হংকং ও চিনের মধ্যে যাতায়াত হওয়ায় দ্রুত সেই ভাইরাস হংকংয়েও হামলা চালায়। সেই অভিজ্ঞতা থাকায় করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় আগে ভাগে সতর্ক ছিল হংকং।

রিপোর্ট আরও উঠে এসেছে, হংকংবাসী যথেষ্ট সচেতন। প্রায় শতভাগ মানুষের মুখে মাস্ক পরা। সাধারণ জ্বর সর্দি হলেই কর্মক্ষেত্রে আসছেন না তারা। সরকারিভাবেও যথেষ্ট সতর্কতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে।

চলছে প্রশাসনিক উদ্যোগ গণস্বাস্থ্য কর্মসূচি। বিতরণ করা হয়েছে জীবাণু নাশক। এই সব কারণে ভয়াবহ করোনা হামলা রুখে দিতে পেরেছে হংকং। ঠিক একই রকম কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে চিনেরই আর এক প্রতিবেশী ভুটান।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ