স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: সাড়ে পাঁচ মাসেই মধুচন্দ্রিমা শেষ! তুলিকা ঘোষ দত্ত আবার নতুন করে টেবিল টেনিস তারকা স্বামী সৌম্যজিত ঘোষের বিরুদ্ধে বারাসাত থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন। জাতীয় টেবল টেনিস খেলোয়াড় স্বামীর বিরুদ্ধে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন, বিশ্বাস ভঙ্গ এবং ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনলেন তাঁর স্ত্রী৷

বুধবারই বারাসাত থানায় অভিযোগ করলেও তুলিকা বিষয়টি জনসমক্ষে তথা সংবাদ মাধ্যমের সামনে আনেন বৃহস্পতিবার। এর আগে গত বছর ২১ মার্চ সৌম্যজীতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনলেও পরে অর্থাৎ আদালতের নির্দেশ মেনে ৩ অগস্ট তূলিকাকে বিয়ে করেন সৌম্যজিত৷ ডিসেম্বেরের শেষে টিটিএফআই সৌম্যজিতের উপর থেকে নির্বাসনও প্রত্যাহার করে নেয়।

কিন্তু স্ত্রী তুলিকার অভিযোগে ফের বিপাকে অর্জুন পুরস্কার জয়ী এই প্যাডেলার৷ এর আগে থেকেই তাঁকে দিয়ে জোরপূর্বক বিভিন্ন আইনি কাগজে সই করিয়ে নেওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে তা না-করায় মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলিকার। স্বামী সৌম্যজিত ছাড়াও তুলিকা তাঁর শ্বশুর বাড়ির আরও পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অর্থাৎ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে বারাসাত থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি৷

বিয়ের আগে থেকে বিতর্কের কেন্দবিন্দুতে ছিলেন সৌম্যজিত। আদালতের রায়ে অবশেষে বিয়েটা করলেো তা ‘মধুর’ ছিলেন না তা তখনই বোঝা গিয়েছিল৷কারণ কলকাতা উচ্চ আদালতের নির্দেশে একপ্রকার চাপের মুখে দীর্ঘিদিনের বান্ধবীকে বিয়ে করেছিলেন এই টিটি তারকা৷ সামাজিক রীতি মেনে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের ন’পাড়ায় মেযেটির বাড়িতে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন সৌম্যজিৎ। তাঁর দেশের বাড়ি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে হলেও কলকাতায় বাঘাযতীনের বাড়ি থেকে বারাসতে গিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে শুভ পরিণয় সম্পন্ন করেছিলেন সৌম্যজিত। কিন্তু মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অন্ধকার নেমে এল৷

সৌম্যজিৎ ও তাঁর বান্ধবীর সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন এবং বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত বছর। সৌম্যজিৎ ঘোষ দেশের হয়ে বিদেশে খেলতে গিয়েছিলেন। তখনই তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের বান্ধবীর সঙ্গে হঠাৎই সব সম্পর্ক ছিন্ন করে তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। মেয়েটির অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করেছে সৌম্যজিৎ৷ এমনকী, একবার তাঁকে গর্ভপাত করতেও বাধ্য করেছিলেন৷ তার পরও কেন সৌম্যজিৎ এমন করলেন, তার উত্তর খুঁজতেই তিনি আইনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বান্ধবী তুলিকা৷

তার পর বারাসতের ওই যুবতী দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় মেয়েটিকে সব রকম আইনগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বারাসতের বিধায়ক প্রখ্যাত অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তীকে মেয়েটির পরিবারের পাশে থেকে সাহায্যের নির্দেশও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা হাইকোর্টে মামলা গড়ায়। ওই মেয়েটি প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন সৌম্যজিতের বিরুদ্ধে। দেশের শীর্ষ টেবিল টেনিস তারকার সৌম্যজিতের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় কমনওয়েলথ গেমস থেকে তাঁকে সেই সময় দেশে ফিরতে হয়েছিল।