জাকার্তা: ফের ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া। সুনামির সতর্কবার্তায় রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.১। তীব্রতা বেশি থাকার ফলেই সুনামির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার কাছে মোলুক্কাসের সমুদ্রে এই কম্পন হয়েছে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দ্বীপ অঞ্চলের বাসিন্দারা। তাঁরা অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গার দিকে চলে যান।

বৃহস্পতিবার এই কম্পন অনুভূত হয় ওই অঞ্চলে। তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.১। ৪৫ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎসস্থল। প্রথমে ৭.৪ মাত্রার কম্পন বলে চিহ্নিত করেছিল ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে।

ইন্দোনেশিয়ার এক আধিকারক বলেন, খুব সম্ভবত সুনামির ধাক্কা মারার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবু আমরা বিপদ সংকেত জারি করে রেখেছি। এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। সুলায়েসি দ্বীপেও বড়সড় কম্পনের প্রভাব পড়েছে বলে কথা জানা গিয়েছে। বাড়ি-ঘর রীতিমত কেঁপে উঠেছিল বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী হয় ওই কম্পন। পরেও কম্পন অনুভূত হয়েছে, তবে তার তীব্রতা অনেক কম ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁরা। অনেক বাসিন্দা ট্যুইটারেও তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন।

গত জুন মাসে বড়সড় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল ইন্দোনেশিয়ার মালাকু দ্বীপ। আতঙ্কে বাসিন্দারা নেমে পড়েন রাস্তায়, তবে সেক্ষেত্রে সুনামির কোনও সতর্কবার্তা জারি হয়নি। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৩। উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

গত বছর ইন্দোনেশিয়ার পালুতে সুলায়েসি আইল্যান্ডে ৭.৫ মাত্রার কম্পন হয়, সঙ্গে সুনামি। সেখানে ২২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। অনেকেই নিখোঁজ হয়ে যান।

তবে সবথেকে ভয়ঙ্কর কম্পন হয়েছিল ২০০৪-এর ২৬ ডিসেম্বর। কম্পনের মাত্রা ছিল ৯.১। সুমাত্রা উপকূলের সেই কম্পনে সুনামিতে ২ লক্ষ ২০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই মৃত্যু হয় ১ লক্ষ ৭০,০০০ মানুষের।