ওয়াশিংটন ও তেহরান: কোনওরকম যুদ্ধ চাই না৷ তবে ইরানের যদি সেরকম কিছু ইচ্ছা থাকে তাহলে তারা ধংসের মুখে পড়বে৷ এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর৷ ট্রাম্প তাঁর মন্তব্যে “obliteration” শব্দের প্রয়োগ করেছেন৷ এর মানে ধংসের দিকে এগিয়ে যাওয়া বিবিসির প্রতিবেদনে সেই শব্দকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷

পারস্য উপসাগরে ইরানি সীমান্তের ভিতর চলে আসা একটি মার্কিন ড্রোনকে গুলি করে ধংস করে ইরানি রক্ষীরা৷ তারপর থেকেই তেহরানের লাগাতার হুমকি ও রাষ্ট্রসংঘে চরম পত্র পাঠানোর জেরে আরও উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক মহল৷ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান সরকারের দাবি, একটা গুলি যদি ছোঁড়া হয়, তাহলে বিশ্ব তেলের বাজারে প্রবল অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে৷ তার প্রবল ধাক্কা লাগবে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলির অর্থনীতিতে৷

ইরানি সংবাদ মাধ্যম ইরনা ও তেহরানের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার কাছে ইরানি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস বিভাগের প্রধান আমির আলি হাজিজাদেহ বলেছেন, সেদিন ইচ্ছে করলে ৩৫ জন আরোহী সহ একটি মার্কিন সামরিক বিমানকে আমরা ধংস করতে পারতাম, কিন্তু আমরা তা করিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন- যে মার্কিন ড্রোনটি ধংস করা হয়েছে তার সঙ্গে বোয়িং কোম্পানির একটি পি-এইট সামরিক বিমান ছিল। ওই বিমানে ৩৫ জন আরোহী ছিল। ড্রোনের সঙ্গে ওই বিমানটিও আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। ড্রোনটিকে ধংস করে আমরা মার্কিন সেনাকে কেবল সতর্ক করতে চেয়েছি।

পারস্য উপসাগরীয় এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি রীতিমতো উত্তপ্ত৷ সম্প্রতি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর জাহাজে কমান্ডো অভিযান হয়৷ দুই আরব রাষ্ট্রের অভিযোগ, কমান্ডো অভিযান চালিয়েছে ইরান৷ কিন্তু তেহরান সেটা মানতে চায়নি৷ এরপরেই সৌদি ও আমিরশাহীর বন্ধু হিসেবে উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন রণতরীকে বিশেষ বার্তা দেয় পেন্টাগন৷ মার্কিন রণতরীর এগিয়ে আসার পরেই ইরানি নৌবাহিনীও পাল্টা অবস্থান নিতে শুরু করে৷ সেই সঙ্গে ফের তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রবল কূটনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে৷

ইরানের সর্বচ্চো নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেই জানিয়েছেন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এর ফল ভুগতে হবে৷ ইরানি প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি জানিয়েছেন-যে কোনও পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনাকে রুখতে তৈরি ইরান৷