ওয়াশিংটন ও তেহরান: ইরানের সঙ্গে প্রবল কূটনৈতিক সংঘাতের মাঝেই আচমকা সুর পাল্টালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ যে মার্কিন ড্রোনটিকে গুলি করে ধংস করেছে ইরান তার জেরে দুই দেশের গরম সম্পর্কের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও৷ ইরান দাবি করে, লুকিয়ে সীমান্ত এলাকার ছবি তুলতে বিরাট আকারের ড্রোনটি পাঠানো হয়েছিল৷ সেইদিন এই ড্রোন ধংস করা হলেও আমেরিকার সেনা বিমানকে ছাড় দেওয়া হয়৷ ট্রাম্প এর উত্তরে ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন

ওয়াশিংটন থেকে ট্রাম্পের ধন্যবাদ বার্তায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে৷ ধারণা করা হচ্ছে, এর জেরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলতে থাকা উত্তেজনা কমতে পারে৷ তবে ট্রাম্প এও বলেন-আমি মনে করি তারা এটা না করে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন৷ ইরান যাতে যুদ্ধে না জড়ায় তার জন্য বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যদি যুদ্ধ চায় তাহলে তার জন্য ধংস অপেক্ষা করছে৷ অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানিও আমেরিকার অবস্থানকে সতর্ক করে দেন৷ ইরান জানিয়ে দেয়-একটিও গুলি ছোঁড়া হলে বিশ্ব তেলের বাজারে তৈরি হবে অস্থিশীলতা৷ এর প্রভাব পড়বে আমেরিকার বন্ধু দেশগুলির উপর বেশি৷

গত বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের সেনা একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোনকে গুলি করে ধংস করে৷ তখন তার পাশেই ছিল সেনা বহনকারী একটি মার্কিন বিমান৷ পরে তেহরানে সাংবাদিক সম্মেলনে ইরান দাবি করে, ড্রোনটি ধংস করার সময় ছাড় দেওয়া হয়েছিল মার্কিন সেনা বিমানকে৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩৮ জন সেনাকর্মী সহ ওই সামরিক বিমানে গুলি না চালানোর কারণে ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

পারস্য উপসাগরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দুটি জাহাজে রহস্যজনক কমান্ডো অভিযান থেকে নতুন করে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত পরিস্থিতি তীব্র হয়৷ আরব দেশগুলির দাবি, কমান্ডো পাঠিয়েছিল ইরান৷ পরে সেই রেশ ধরে পারস্য উপসাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অভিমুখে মার্কিন রণতরী পাঠানো হয়৷ পাল্টা ইরানি নৌ সেনা অবস্থান নেয়৷