ওসাকা: জি ২০ সামিটে দেখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আর সেখানেই বিজনেস ডিল নিয়ে কথা হয়েছে দু’জনের। ট্রাম্প বলেছেন, ভারত ও আমেরিকার বন্ধুত্বের সম্পর্ক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মোদীর সঙ্গে দেখা করে ট্রাম্প বলেন, ”আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছি। আমাদের দুই দেশ কখনও এতটা কাছাকাছি আসেনি। আমরা অনেকগুলি বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করব যার মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষাও। বাণিজ্য নিয়েও কথা বলব আমরা।” ভারত ২৮টি মার্কিন পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপ করেছে চলতি মাসের শুরুতে। তার আগে আমেরিকা ১ জুন দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অনুমোদন প্রত্যাহার করে নেয়। তারপরই এই সিদ্ধা‌ন্ত ভারতের।

এছাড়াও, ট্রাম্প মোদীকে নির্বাচনে জয়ের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘‘এটা দারুণ জয়। খুব বড় জয়, আপনার এটা প্রাপ্য… আপনি এবং আপনার দক্ষতার প্রতি দারুণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন। সবাইকে একসঙ্গে করার ব্যাপারে আপনি দারুণ কাজ করেছেন। আমার মনে পড়ছে, প্রথমবার যখন আপনি ক্ষমতায় এলেন, তখন অনেক সংঘাত ছিল। অনেকেই পরস্পরের সঙ্গে লড়াই করছিল। কিন্তু এখন তারা সবাই একসঙ্গে হয়েছে।” মোদীর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পরে এটাই দুই নেতার প্রথম সাক্ষাৎ।

মোদী-ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে বলতে গিয়ে বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে জানান, ‘‘ইরান বিষয়ে আমাদের প্রাথমিক ফোকাস ছিল সেখানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার। বহু দিক থেকেই অস্থিরতা কাজ করছে ওখানে। কেবল শক্তি সম্পদের প্রয়োজনেই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী আশি লক্ষ ভারতীয় বাস করছেন, তাঁদের জন্যও।”

মোদী-ট্রাম্প বৈঠকের আগে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন মোদী, ট্রাম্প ও শিনজো আবে। ভারত-মার্কিন-জাপান ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি মোদি কথা বলেন BRICS (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা) নেতাদের সঙ্গেও। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মোদী তাঁদের বলেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদ মানবতার কাছে সবথেকে বড় বিপদ। কেবল নিরীহ মানুষদের হত্যা করাই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করে।”

বৃহস্পতিবার শিনজো আবের সঙ্গে মোদীর বৈঠক ছিল উষ্ণতাপূর্ণ।

জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করার আগে মোদী জানান, দু’দিন ওসাকা সফর ২০২২ সালে ভারতে জি২০ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিপ্রস্তর হতে পারে। সেই বছর স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি। ‘নতুন ভারত’-এর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।