নিউ ইয়র্ক: ড্রেসিং রুমে ধর্ষণ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন এক মার্কিন লেখিকা। বছর ২০ আগে তাঁর সঙ্গে সেই ঘটনা ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন ৭০ বছরের ই জিন ক্যারল। যদিও সেই অভিযোগকে ‘কল্পকাহিনী’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।

‘নিউ ইয়র্ক’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই অভিযোগ করেছেন ক্যারল।

ক্যারল জানিয়েছেন, ১৯৯৫ সালের শেষ দিকে বা ১৯৯৬ সালের প্রথম দিকে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় তার। নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে বার্গডোফ গুডম্যান নামে অভিজাত এক ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে তাদের দেখা হয়। সেখানে তারা দুজনই কেনাকাটা করছিলেন। সেইসময়েই ঘটে এই ঘটনা।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন একের পর এক মহিলা। অন্তত ১৯টি অভিযোগ রয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। ক্যারলের অভিযোগ তাতে নতুন সংযোজন। যদিও ট্রাম্পের দাবি তাঁর সঙ্গে নাকি ক্যারলের কখনও দেখানই হয়নি। অথচ পুরনো একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি পার্টিতে ট্রাম্পের সঙ্গে একই ফ্রেমে রয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে একই ফ্রেমে ক্যারল

সেইসময় রিয়েল এস্টেটের অন্যতম সম্রাট ছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন লেখিকা জানান, এই সময় হঠাৎ ড্রেসিং রুমের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরই ট্রাম্প তাঁকে দেওয়ালে ধাক্কা দেন। তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। একসময় ট্রাম্প তাঁর মুখ ক্যারলের ঠোঁটের কাছে নিয়ে এসে চেপে ধরেন। ক্যারল আরও জানান, ট্রাম্প তার আঁটসাঁট পোশাক টেনে খুলতে চেষ্টা করেন। তাঁর প্যান্টের চেন খুলে ফেলেন। উপায় না পেয়ে ট্রাম্পকে ধাক্কা দিয়ে ড্রেসিং রুম থেকে বের হয়ে আসেন।

ট্রাম্প ও ক্যারলের বয়স তখন বছর ৫০। ট্রাম্পের তৎকালীন স্ত্রী ছিলেন অভিনেত্রী মার্লা ম্যাপলস। দুই বন্ধুকে এই ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন ক্যারল। তখন একজন তাকে পুলিশের সাহায্য নিতে বলেছিলেন। অন্যজন তাকে বুঝিয়েছিলেন ট্রাম্পের অনেক আইনজীবী আছে। যাদের তাকে শেষ করে দিতে কোনো সময়ই লাগবে না। ফলে ভয়ে পুলিশকে জানাননি ওই লেখিকা।

এই অভিযোগ সামনে আসার পর, এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ক্যারলের সঙ্গে কখনই দেখা হয়নি। আসলে সে নতুন বই বেচার চেষ্টা করছে। তাই এসব কথা বলছে। ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ক্যারল আনিয়েছেন, সেদিনের ঘটনার পর আর কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের পথে যাননি তিনি।