ওয়াশিংটন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফলাফল যাই হোক অথবা পরাজয় হোক কোনও অবস্থায় গণতান্ত্রিক রায়ের মর্যাদা নষ্ট করা হবে না। নির্বাচন পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়মেই হবে।এমনই জানালেন,প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতা সিনেটর মিচ ম্যাককনেল।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ব্যালট ভোটে কারচুপির সম্ভাবনা প্রবল। এই প্রক্রিয়ায় ভোটে পরাজয় হলে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সরকার টিকিয়ে রাখা হবে। তাঁর মন্তব্য ঘিরে তীব্র আলোড়ন পড়ে। ট্রাম্প গণতন্ত্রকে কুঠারাঘাত করতে চাইছেন, এমন অভিযোগ উঠতে শুরু করে।

সরকারে থাকা দল রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতা মিচ ম্যাককনেল গণতান্ত্রিক রায় মেনে ক্ষমতা হস্তান্তরের টু়ইট করে বিতর্ক চাপা দিতে ততপর হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেই জিতুক, ২০ জানুয়ারি শান্তিপূর্ণভাবেই নতুন সরকার হবে।

গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডাকযোগে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, এটি বাদ না দিলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে না। আমাদের শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে আসলে কী ঘটে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বিশ্বে সর্বাধিক। এই অবস্থায় মার্কিন নির্বাচন কমিশন ডাকযোগে ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠিয়ে ভোট গ্রহণের পক্ষপাতি। কারণ, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দানের সময় সংক্রমণ আরও ছড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল।

এইখানেই আপত্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। তিনি দাবি করছেন, এই প্রক্রিয়ায় জাল ভোটের সম্ভাবনা বাড়বে। এতে জনমতের সুষ্ঠু প্রয়োগ হবে না। ফলাফল মেনে না নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেনের হুঁশিয়ারি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি এমন কিছু করেন তাহলে সেনাবাহিনী তাঁকে হোয়াইট হাউস থেকে সরাবে।

ফক্স নিউজ এবং সিএনএনের খবর, ২০১৬ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের কাছে হেরে গেলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন না বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তখন হিলারির প্রতিক্রিয়া ছিল এটি গণতন্ত্রে আঘাত। তবে হিলারি পরাজিত হন।

বিবিসি জানাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সবাই ফলাফল মেনে নিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তা না মানেন, গণতান্ত্রিক বিশ্বের রোল মডেলের দেশ বিশ্বজুড়ে নিন্দিত হবে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।