তেহরান-ওয়াশিংটনঃ  গত কয়েকমাস ধরেই ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একে-অপরের উদ্দেশ্যে চলছে লাগাতার হুমকি। যে কোনও মুহূর্তে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। যখন এই অবস্থায় আতঙ্কে ভুগছে গোটা বিশ্ব তখন তেলের ট্যাঙ্কারের উপর হামলার ঘটনায় ইরানকে কাঠগড়ায় তুলল ট্রাম্প প্রশাসন। ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর দু’টি তেলের ট্যাঙ্কারের উপর হামলার ঘটনায় ইরানকে দুষেছে আমেরিকা। যাতে নতুন করে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।

যদিও আমেরিকার সেই অভিযোগকে একেবারে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। কৌশলগত দিক থেকে প্রচন্ড গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ। আর এখানে চলতি মাসে একাধিকবার হামলার মুখে পড়তে হয়েছে মার্কিন তেলের ট্যাঙ্কারগুলিকে। আর এভাবে বারবার মার্কিন তেলের ট্যাঙ্কারগুলি বিপদের মুখে পড়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আমেরিকা। এই বিষয়ে মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও সরাসরি ইরানকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। যার ফলে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।

মার্কিন বিদেশ সচিব ইরানকে টার্গেট করে বলেন, আঞ্চলিক স্বার্থরক্ষায় ওয়াশিংটন যে কোন ধরণের শক্ত পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর এই মন্তব্যে কার্যত সামরিক পদক্ষেপেরই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও মার্কিন বিদেশ সচিবের পালটা বক্তব্য দিয়েছে তেহরানও। ইরানের বিদেশমন্ত্রী মহম্মদ জাভাদ জারিফের এই প্রসঙ্গে পালটা মন্তব্য, কোনও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ইরানকে দোষী সাব্যস্ত করাটা অন্যায়। আর তা করতেই তৎপর হয়ে উঠেছে আমেরিকা।

আমেরিকা অন্তর্ঘাতের কূটনীতি করছে বলেও পালটা মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। এদিকে, মার্কিন ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আরব আমিরশাহি। জাপানের তরফেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সকালে ওমান উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ট্যাঙ্কার দুটির একটি মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকা লাগানো ফ্রন্ট অ্যালটেয়ার এবং অপরটি পানামার পতাকা লাগানো কোকুকা কারেজিয়াস। ফ্রন্ট অ্যালটেয়ার নরওয়ের মালিকানাধীন আর কোকুকা জাপানের মালিকানাধীন। হামলার পরপরই নিকটবর্তী দেশগুলোতে বিপদ সংকেত পাঠানো হয়। আর তা পেয়ে দ্রতই ইরানি উদ্ধারকারী জাহাজ হামলার শিকার জাহাজ দুটি থেকে সব ক্রুকে উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও ইরানকে দায়ী করেন। সৌদি আরব ও ব্রিটেন তাতে সমর্থন দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শুক্রবার একই অভিযোগ করেছেন। তবে ইরানও কঠোর ভাষায় এই হামলায় নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।