ওয়াশিংটন: একের পর এক মিসাইল ছুঁড়েছে ইরান। ইরাকের মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে। এরপরই ট্যুইট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, “All is well!”

সোলেমানিকে হত্যার জবাবে, ইরাকের সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে এক ডজন মিসাইল ছুঁড়েছে ইরান। গত সপ্তাহেই মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকে ইরানের মেজর জেনারেল সোলেমানির মৃত্যু হয়। এরপর একের পর এক পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। ইরাকের সেনা ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা ছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও মার্কিন সেনার হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এরপরই ট্রাম্প ট্যুইট করে বলেন, ‘ইরাকের দুটি সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, তার খোঁজ চলছে। এখনও পর্যন্ত সবই ঠিক আছে।’ ইরানকে বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বের মধ্যে সবথেকে শক্তিশালী ও আধুনি অস্ত্রধারূ সেনাবাহিনী আমাদের আছে। কাল সকালে বিবৃতি দেব।’

ইরাকে অবস্থিত দু’টি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ১২টি’র বেশি ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকা প্রতিরক্ষা দফতর। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরবিল ও আল-আসাদ বিমান ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা হয়েছে। ইরান থেকেই মিসাইলগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, দেশটির শীর্ষ জেনারেল কাশেম সোলেমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যার জবাব হিসাবে এই হামলা করা হয়েছে। ইরাকের আল-আসাদ নামের ওই বিমান ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি মিসাইল হামলা করে। হোয়াইট হাউস পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে।

আমেরিকার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, ওই এলাকায় আমেরিকার ও সহযোগীদের সকল কর্মীকে রক্ষায় দরকারি সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই মিসাইল হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিশাম বলেছেন, ”ইরাকের একটি মার্কিন ঘাটিতে হামলার খবরের ব্যাপারে আমরা সচেতন রয়েছি। প্রেসিডেন্ট এই বিষয়ে অবহিত হয়েছেন এবং তিনি গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন ও জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন।”

ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ড জানিয়েছে, সোলেমানির হত্যাকাণ্ডের বদলা হিসাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের ইরনা নিউজ এজেন্সিতে একটি বিবৃতিতে তারা বলেছে, ”আমেরিকার সব সহযোগীদের আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি, যারা তাদের ঘাটিগুলোকে এই সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে দিয়েছে, যেখান থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হবে, সেটাই লক্ষ্যবস্তু করা হবে।”

এদিকে, মার্কিন সেনাকে ‘টেররিস্ট’ বলে চিহ্নিত করেছে ইরান। মঙ্গলবার ইরানের সংসদ থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের মেজর জেনারেল সোলেমানিকে হত্যার প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই সোলেমানিকে এয়ারস্ট্রাইকে হত্যা করা হয়।

সোলেমানির মৃত্যুর পর থেকেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি। বারবার সংঘাতের খবর আসছে। কিভাবে ইরান এর প্রতিশোধ নেবে তা জানার জন্য আমেরিকা শুরু করেছে নানান পরিকল্পনা। এমন অবস্থায় সোমবার বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসের দিকে উড়ে আসে পরপর তিনটে মিসাইল।

বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে কাছে এই রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। মনে করা হচ্ছে একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। স্থানীয় রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই মিসাইলগুলি একটি অ্যাপার্টমেন্টে আঘাত করে। এর ফলে বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ মারা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।