পাটনা : লোকসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় সংকট নেমে এল লালুর পরিবারে। বৃহস্পতিবার দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন লালুর বড় ছেলে তেজ প্রতাপ যাদব। এদিন নিজের টুইটার পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। যা নিয়ে রীতিমতো চাপে পড়েছে আরজেডি।

বেশ কিছুদিন ধরেই বেশ অখুশি ছিলেন তেজ প্রতাপ। ভাইয়ের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই মনমালিন্য চলছিল তাঁর। পরিবারের বড় সন্তান হয়েও রাজনীতির অঙ্গনে বরাবর ছোট ভাই তেজস্বীর চেয়ে পিছিয়েই থেকেছেন আরজেডি প্রধানের জ্যেষ্ঠপুত্র তেজ প্রতাপ যাদব। নিজের উত্তরসুরী হিসেবেও বরাবর তেজস্বীকেই সামনে রেখে এসেছেন লালূ। যা নিয়ে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল তেজের মনে। ২০১৫ সালে নীতীশ কুমার নেতৃত্বাধীন জনতা দল ইউনাইটেড-আরজেডি একত্রিত হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর, বিহারে ক্ষমতায় আসে। তখন উপ-মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তেজস্বী, কিন্তু তাঁর চেয়ে এক বছরের বড়ো তেজ প্রতাপকে দেওয়া হয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ।

ফাইল ছবি

এছাড়া, সূত্রের খবর, তাঁর প্রাক্তন শ্বশুর চন্দ্রিকা রাইকে ছাপড়ার আসন থেকে দাঁড়াতে দেওয়া হয়েছে। তেজ কখনোই চাইছিলেন না এই আসন থেকে চন্দ্রিকা দাঁড়ান। কিন্তু লালু ও তেজস্বী চাইছিলেন ছাপরায় আটবারের বিধানসভা আসন জিতে আসা আসনেই প্রতিযোগিতা করুন চন্দ্রিকা। অন্যদিকে, নিজের কিছু ঘনিষ্ঠ প্রার্থীর নাম এই প্রার্থী তালিকায় রাখতে চাইছিলেন তেজ প্রতাপ। কিন্তু তা হয়নি।

সেই কারণেই পুরনো মতবিরোধ বেশি মাত্রায় চাগাড় দিয়ে উঠেছিল প্রসাদ বাড়ির অন্দরে। ছাই চাপা আগুন প্রকাশ্যে এনে তাই এমন ঘোষণা তেজের। পারিবারিক মতবিরোধই দলীয় পদে ইস্তফা দেওয়ার মূলে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক শিবির। নিজের টুইটার পোস্টে তেজ প্রতাপ বলেছেন, ” আমি আরজেডি-র ছাত্র শাখার পদ থেকে পদত্যাগ করছি। “

বিহারে ৪০ টি আসনে ১১ এপ্রিল আছে ভোট। তেজ প্রতাপের সরে আসার বিষয়টি আরজেডির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার ক্ষেতরে বড়সড় চাপের সৃষ্টি করবে। পারিবারিক কেচ্ছা ফের ঘুরে ফিরে প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরা।