প্রতীকী ছবি

ত্রিবান্দ্রাম : শরীরের সাথে সাথে মনও ভাল রাখা জরুরি। নয়তো করোনা থেকে সেরে উঠেও মানসিক অবসাদ থেকে যেতে পারে কোনও রোগির মধ্যে। এমনই বলছেন চিকিৎসকরা। কেরলের ত্রিবান্দ্রামের মেডিক্যাল কলেজে সাতটি ওয়ার্ড তৈরি হয়েছে করোনা আক্রান্তদের জন্য। সেই ওয়ার্ডগুলিতে করোনা আক্রান্ত রোগিদের মন ভাল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

করোনা আক্রান্তদের মধ্যে মানসিক চাপ, অবসাদ কমাতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রোগিরা। করোনা ওয়ার্ডে লাগানো হয়েছে এফ এম রেডিও, যাতে গান শুনতে পারেন তাঁরা। এছাড়াও ওয়ার্ডে গড়ে তোলা হয়েছে লাইব্রেরি।

কেরল সরকারের লক্ষ্য বই পড়ে, গান শুনে কিছুটা হলেও মন ভালো থাকবে রোগিদের। এতে পরিবারের থেকে দূরে থাকার কষ্ট, করোনার মৃত্যুভয় কিছুটা হলেও কমবে তাঁদের। মানসিক চাপ দূর হলে, রোগের সঙ্গে লড়াই করা সহজ হবে বলে মনে করছে কেরল সরকার।

ওই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ২২ বছরের রাকেশ পদ্মাকুমার জানাচ্ছেন, করোনা পজেটিভ ধরা পড়ার পর থেকে অসম্ভব মানসিক চাপ ঘিরে ধরে তাঁকে। এই হাসপাতালে ভরতি হতে হয়। পরিবারের থেকে দূরে থেকে খুব একা লাগত তাঁর। কিন্তু এবার অনেকটা হালকা লাগছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়।

উল্লেখ্য এই প্রজেক্টের আইডিয়া দেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা। মেডিক্যাল কলেজে এই প্রজেক্টের বাস্তবায়নের জন্য হাসপাতাল সুপার ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সাথে বৈঠকও করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে করোনার মোকাবিলার কৃতিত্বের জন্য কুর্নিশ জানাল রাষ্ট্রসংঘ। সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের আলোচনা সভায় ডাক পেয়েছিলেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা। মারণ করোনার বিরুদ্ধে কেরলের লড়াইয়ের স্বীকৃতি এর আগেই মিলেছিল।

একাধিক বিদেশি সংবাদপত্রও করোনা মোকাবিলায় কেরল মডেলের তত্ত্ব তুলে ধরেছিলেন। এবার রাষ্ট্রসংঘের ভার্চুয়াল ওয়েবমিনারে অংশ নিয়েছিলেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর প্যানেলে ছিলেন শৈলজা। সেখানেই তাঁর মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে মোকাবিলার উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়।

এদি্কে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ফের ১৪৯৩৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৩১২ জনের। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪ লক্ষ ৫৬ হাজার ১৮৩। দেশে করোনায় মৃত বেড়ে ১৪ হাজার ৪৭৬।

আনলক ১ পর্বে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়েছে আমজনতা। খুলে গিয়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, কারখানা-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে দেশে করোনার সংক্রমণও পাল্লা দিয়ে বেড়ে গিয়েছে।

প্রতিদিন দেশজুড়ে হাজার-হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। মারাও যাচ্ছেন অনেকে। দেশে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তের তুলনায় সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা বেশি। ভারতে করোনায় সুস্থতার হার ৫৬.২%।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.