আগরতলা: বিজেপি ও আইপিএফটি জোট সরকারের নির্দেশে ত্রিপুরায় সরকারি হাসপাতালে আর নিখরচায় চিকিৎসার সুযোগ বাতিল হয়েছে। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে উপজাতি এলাকার স্বশাসিত সংস্থায় ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট জানিয়ে দিল এই নির্দেশ মানা হবে না। এডিসি অর্থাৎ ট্রাইবাল অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের অন্তর্গত কোনও হাসপাতালেই খরচ দিয়ে চিকিৎসা হবে না। এক্ষেত্রে পূর্বতন বাম সরকার যে নিখরচায় রাজ্যব্যাপী সরকারি চিকিৎসার সুযোগ করেছিল তাই মেনে চলা হবে। এমনই জানানো হয়েছে।

ফলে আসন্ন এডিসি নির্বাচনের আগেই বিজেপি-সিপিএম দ্বন্দ্ব আরও তীব্র। ২০২০ সালে হবে ত্রিপুরার বিস্তীর্ণ উপজাতি এলাকার স্থানীয় নির্বাচন। আর গত বিধানসভা নির্বাচনে এই এলাকায় সিপিএমের ভোট ব্যাংকে বিরাট ধস নেমেছিল। সেই ধাক্কায় টানা দু দশকের ক্ষমতা থেকে সরে গিয়েছে সিপিএম। বামফ্রন্ট পরিচালিত এডিসি মুখ্য কার্যনির্বাহী রাধাচরণ দেববর্মা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের সার্ভিস রুল অনুসারে এডিসি প্রশাসন চললেও কোনওভাবেই এসমা ও খরচ দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ মানা হবে না। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি সরকার। কেন্দ্র সরকার উপজাতি এলাকার উন্নয়নে কোনও নজর দিচ্ছে না।

ফলে অনুন্নত ও আর্থিকভাবে দুর্বল উপজাতিদের জন্য নিখরচায় হাসপাতাল পরিষেবা তুলে নিয়ে মানুষ মারার নীতিতে বিশ্বাসী নয় বামফ্রন্ট। এদিকে ত্রিপুরার সরকারি হাসপাতালগুলিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে নিখরচার পরিষেবা ছিল তা তুলে নেওয়ায় তৈরি হচ্ছে প্রবল ক্ষোভ। বিরোধী বামপন্থীদের অভিযোগ, এইভাবেই সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ধংস করে বেসরকারিকরণের চেষ্টা চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। ইতিমধ্যেই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করানোর খরচ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিক্ষোভের পরিবেশ। অভিযোগ, খরচ দিতে না পারায় রোগীর মৃত্যুও হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে।

তিনি অনুরোধ করেন, দ্রুত হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসার পরিষেবা ফিরিয়ে আনা হোক। এরপরেই রাজনৈতিকভাবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল এডিসি প্রশাসন। গত বিধানসভা ও পরবর্তী ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই উপজাতি এলাকায় বিরাট ক্ষতির মুখে পড়ে সিপিএম। লোকসভাতেও হয় ভরাডুবি। অভিযোগ, ব্যাপক রিগিং করা হয়েছে। রিগিংয়ের অভিযোগ মেনে নেয় নির্বাচন কমিশন। এদিকে বিজেপির জোট শরিক তথা উপজাতি দল আইপিএফটি বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিপক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। তারা আগেই জানিয়েছে, এডিসি নির্বাচনে আলাদা লড়াই করবে।

এক নজরে এডিসিঃ
১. পুরো নাম Tripura Tribal Areas Autonomous District Council (TTAADC) সংক্ষেপে ADC নামেও পরিচিত। মূলত উপজাতি অধ্যুষিত।
২. ত্রিপুরার প্রায় ৬৮ শতাংশ এলাকা এডিসি অন্তর্ভুক্ত
৩. মোট ৩০টি আসন। নিয়ম অনুসারে ২টি আসন রাজ্যপাল দ্বারা মনোনীত।
৪. গত এডিসি ভোটে বামফ্রন্ট জয়ী হয়েছিল ২৪টিতে। ৪টি পায় অন্যান্যরা। পরে একটি আসন হাতছাড়া হয় বামেদের।