আগরতলা: এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ অবধি কোনও করোনা সংক্রমণের খোঁজ ছিল না, তবে প্রতি বাড়ি ঘুরে ঘুরে এবার অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হবে ত্রিপুরায়। সোমবার থেকে শুরু হতে চলেছে এই প্রক্রিয়া। অসম সরকারের তরফে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার একদিন পরেই এই ঘোষণা করেছে ত্রিপুরা সরকার।

এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ অবধি কোনও করোনা সংক্রমণের খোঁজ ছিল না ত্রিপুরা রাজ্যে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ১৭০৪ জন এখনও আক্রান্ত হয়েছে এই মারণ ভাইরাসে। পরিস্থিতিতে নজর দিয়ে তাই এবার গণহারে করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

ত্রিপুরায় এখনও অবধি করোনা ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন মাত্র একজন তবে ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণ। সক্রিয় ঘটনা ৪০০টি। অ্যান্টিজেন টেস্ট দুটি পর্যায়ে করা হবে গোটা রাজ্যে।

ফেজ-১, রাজ্যের প্রত্যেকটি প্রবেশদ্বার সহ রাজ্যের মোট ২৮টি কনটেইনমেন্ট জোনের মোট জনসংখ্যা এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে। সেখানে মোট ৭.৬২৯ জন মানুষের বসবাস।

জুলাই মাসের ১৩ তারিখ থেকে কোভিড-১৯ অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করতে চলেছে ত্রিপুরা সরকার। আগরতলা বিমানবন্দর থেকে সে সকল যাত্রীরা আসছেন বা যারা রেল স্টেশন থেকে আসছেন বা অসম-ত্রিপুরার চুরাইবাড়ি চেকপোস্ট থেকে আসছেন তাঁদের সকলের এই পরীক্ষা করা হবে।

করোনা পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ এলে তাঁদের কোভিড কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হবে। সূত্রের খবর, করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে সেখানে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রথম পর্যায়ের এই প্রক্রিয়ার জন্য অন্ততপক্ষে ৫০০০০ র‍্যাপিড আন্টিজেন টেস্ট লাগবে। এখনও অবধি কেন্দ্রের তরফে ১৪০০০ কিট পাওয়া গিয়েছে বলেই জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী রতন লাল নাথ।

ফেজ-২, রাজ্যের প্রতিটি বাড়ি ঘুরে করোনা পরীক্ষা করা হবে। এই মহামারি আটকাতে ‘টেস্ট-ট্র্যাক-ট্রিট’ পদ্ধতিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরপূর্বের রাজ্য ত্রিপুরা।

রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মীরা সব বাড়ি-বাড়ি যাবেন সেখানে স্ক্রিনিং হবে। যাদের জ্বর কিংবা করোনা উপসর্গ দেখা যাবে তাঁদের করোনা পরীক্ষা করা হবে। সব টেস্ট করা হবে র‍্যাপিড আন্টিজেন ডিটেকশন কিটের মাধ্যমে।

প্রাথমিকভাবে, মাত্র ৩০ মিনিটেই পরীক্ষার ফলাফ্ল জানাতে সক্ষম এই র‍্যাপিড আন্টিজেন ডিটেকশন কিট। তবে আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে এই টেস্ট আরও নিখুঁত ফল দিয়ে থাকে।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।